তালিকাভুক্ত রাজাকারপুত্র ৯ বছর ধরে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ৯ বছর ধরে একজন যুদ্ধাপরাধীর ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ছাত্রলীগের ওই সভাপতি মো. মাসুদ রানা উপজেলা সদরের মৌলভীপাড়ার মৃত খোকন মিয়ার ছেলে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রকাশিত যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় মাসুদের বাবার নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। তালিকাটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় এলাকায় আলোচনা শুরু হগয়।

জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৩০ জুন ৬১ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটি গঠিত হয়। ওই সময় কাউন্সিল না ডেকে মো. মাসুদ রানাকে সভাপতি ও হাবিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ ৯ বছর পার হলেও ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় ওই কমিটির বৈধতা নিয়ে নড়েচড়ে বসেন পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতারা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে ছড়িয়ে পড়ে দেলদুয়ার উপজেলার '৭১ এর যুদ্ধাপরাধী রাজাকারের তালিকা। ওই তালিকায় বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি মো. মাসুদ রানার বাবা মৃত খোকন মিয়ার নাম ১৬ ক্রমিকে লিপিবদ্ধ রয়েছে। শুধু তাই নয়, মাসুদ রানার চাচা শিরো মিয়ার নামও ওই তালিকায় রয়েছে।

তালিকাটি সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফাজ উদ্দিনের স্বাক্ষর-সীলমোহর সম্বলিত। 

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, দেলদুয়ার উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি দীর্ঘদিন হয়ে গেছে। তবে মো. মাসুদ রানা রাজাকারপুত্র কি-না বিষয়টি নিশ্চিত করবে এলাকাবাসী এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু এবং নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেলদুয়ার উপজেলা ছাত্রলীগের একটি কমিটি কিভাবে করা যায় তার ব্যবস্থা করা হবে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সভাপতি মো. মাসুদ রানা বলেন, স্থানীয় একটি পক্ষ আমার ও আমার পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় আমার বাবার নাম আছে এটি আমি জানতাম না। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি।

সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বাবলু বলেন, দেলদুয়ার উপজেলায় তালিকাভূক্ত ১৬ জন রাজাকার রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীপাড়া গ্রামের মৃত রিয়াজ মিরভরের ছেলে খোকন মিয়াও রয়েছেন। বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুদ রানা রাজাকার খোকন মিয়ার ছেলে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দেলদুয়ার উপজেলার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার বলেন, মৌলভীপাড়ার খোকন মিয়া ছিল আমার সহপাঠী। '৭১-এ আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আর খোকন হয় রাজাকার। রাজাকার হওয়ার কিছুদিন পর সে ফিরেও আসে বলে শুনেছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শিবলী সাদিক বলেন, দেলদুয়ার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় ১৬ নম্বর ব্যক্তি খোকন মিয়া দেলদুয়ার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ রানার বাবা, কেবল বাবা নন, তার চাচাও ছিলেন স্বাধীনতাবিরোধী চিহ্নিত রাজাকার।