রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যানুষ্ঠানটি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সিনেমা হলগুলোতেও বিনামূল্যে দেখা যাবে।
রানীর মৃত্যুর পর থেকে তাকে স্কটল্যান্ড থেকে লন্ডনে নিয়ে আসা পর্যন্ত সব আয়োজন সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করে যুক্তরাজ্য সরকার। বদলে যায় বিবিসির নিয়মিত অনুষ্ঠানসূচি। রানীর মৃত্যুর পর থেকেই দীর্ঘ সময়ব্যাপী সরাসরি ঘটনাপ্রবাহ সম্প্রচার করতে থাকে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি।
৯৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় এলিজাবেথ গত ৮ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার কফিন এখন রাখা হয়েছে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে। আজ সোমবার তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে। এরপর রানীর কফিন লন্ডন ঘুরে উইন্ডসরের দিকে যাত্রা করবে। তাকে উইন্ডসর ক্যাসেলের মাঠে সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে সমাহিত করা হবে।
রয়টার্স বলছে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পর্বের নানা আনুষ্ঠানিকতা দেখাতে দেশটির বিভিন্ন পার্ক, স্কয়ার এবং গির্জায় বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ব্রিটেনজুড়ে ১২৫টি সিনেমা হলে বিনামূল্যে সবচেয়ে বেশিদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শাসন করা রানীর শেষকৃত্য দেখানো হবে।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং লন্ডনে কফিন নিয়ে শোভাযাত্রা পর্ব বিবিসি, আইটিভি ও স্কাইটিভিতেও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকারের সংস্কৃতি বিভাগ।
যুক্তরাজ্যের সিনেমা হল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, যেসব হলে রানীর শেষকৃত্য দেখানো হবে, এরই মধ্যে সেগুলোর অনেকগুলোর আসন অগ্রিমভাবে পূর্ণ হয়ে গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, যত লোক বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে এই শেষকৃত্য দেখবে, তা ১৯৯৭ সালে প্রয়াত রাজবধূ ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, ২০১২ সালে লন্ডনের অলিম্পিক এবং রাজপরিবারের সদস্যদের বিয়েসহ সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে ছাড়িয়ে যাবে।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে ব্রিটিশ রাজত্বের দায়িত্ব নিয়ে টানা ৭০ বছরের রাজকার্যে যুক্তরাজ্য তো বটেই, সারা দুনিয়ার ইতিহাসের সাক্ষী তিনি। রানীর জীবদ্দশাতেই তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র, টিভি ও ওয়েব সিরিজ।
রানীর মৃত্যুতে গোটা দেশ শোকস্তব্ধ। যুক্তরাজ্যজুড়ে ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। সোমবারে দেশটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শেষকৃত্যে বিশ্বনেতাদের আগমন ঘিরে স্মরণকালের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে লন্ডন পুলিশ।