বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের ওপার থেকে বিরামহীন গোলাগুলির শব্দ পাচ্ছেন স্থানীয়রা। রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে গোলা বর্ষণের খবর মিলেছে।
তুমব্রুর অধিবাসী আলী আকবর বলেন, তিনি অন্তত ২০ বার গোলা বর্ষণের শব্দ শুনেছেন। রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারেননি।
ওই এলাকার আরেক অধিবাসী অটোরিকশা চালক আবুল হোসেন জানান, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ব্যাপক গোলাগুলি চলেছে। সকাল ৯টা থেকে ফের থেমে থেমে মর্টারের গোলা ছোড়া হচ্ছে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিততে সীমান্তে সর্তকতার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আগের চেয়ে টহল জোরদার করেছে বিজিবি। এছাড়াও, সীমান্ত সংলগ্ন-ঝুঁকিপূর্ণ ৩০০ পরিবারের দেড় হাজার সদস্যকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে, ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র যাওয়া নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে রেজু আমতলী গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওপারে গোলা বর্ষণ হচ্ছে। কখন যে এখানে পড়ে। ভয় হয়। কিন্তু, কী করব, নিজদের ভিটেবাড়িতে থাকতেই হবে।
বাইশপাড়ি গ্রামের খুরশিদ জানালেন, বেশ কয়েকবার বিকট শব্দ শুনেছেন। বাড়ি-ঘর কেঁপে উঠেছে। জীবিকার তাগিদে সব উপেক্ষা করে বাইরে বের হয়েছেন। অন্যত্র যাওয়ার উপায় নেই।
একই গ্রামের কৃষক আবদুল মালেক বলেন, সীমান্তের কাছাকাছি বেগুনের ক্ষেত। সেখানে কাজ করতে যাচ্ছেন। গোলাগুলি চলছেই। তাদের গ্রামে পাহাড়ি ১৮টি পরিবার। তাদের চলাফেরাও আগের মতও নেই। সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে বাড়িতে ঢুকে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, সীমান্তের কাছাকাছি তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্তত ৬০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। চলতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের উপস্হিতির হার কমে গেছে। আতংকে প্রাত্যহিক সমাবেশ হচ্ছে না। শব্দ শুনলেই অভিভাবকরা স্কুলে এসে সন্তানদের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি জানতে চাইলে ভাজাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদ হোসাইন বললেন, আগের চেয়ে উপস্হিতি কম। জিরো পয়েন্টের সবচেয়ে কাছাকাছি স্কুল, কখন কী হয় বোঝা মুশকিল। তাই তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এর আগে, শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে শূন্যরেখায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেল বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু এবং পাঁচজন আহত হন। তার আগের এক মাস থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী আরকান আর্মির মধ্যে লড়াই চলছে। সীমান্তবর্তী কাউয়ারপাড়া, ফকিরাপাড়া, বলিবাজার, ঢেঁকিবনিয়া এলাকার নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে চলে গেছে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। ওই এলাকাগুলোতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।