‘শুধু আওয়ামী লীগের সময় নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়’- বিবিসিতে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য কেউ বিশ্বাস করে না। অন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীদের বিবিসি এমন প্রশ্ন করে না। তাকে কেন করল তা থেকে বোঝা যায় বিষয়টি।’
সোমবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে গাউসুল আজম জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দান মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির গুলশান জোনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব বলেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে আমীর খসরু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য কি দেশের মানুষ বিশ্বাস করে? আওয়ামী লীগাররা বিশ্বাস করে? সরকারি কর্মকর্তারা বিশ্বাস করে? করে না। যখন একজন বিদেশি সরকার প্রধানকে এ প্রশ্ন করা হয় তখন কি বোঝা উচিত না যে, কেন করা হয়?’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন সেটা কি বাংলাদেশের কেউ বিশ্বাস করে? এটা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কেউ বিশ্বাস করে? বিশ্বাস করলে কি এই প্রশ্নটা করত? আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এ প্রশ্ন কি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে করত? নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে করত? ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীকে করত? শেখ হাসিনাকে কেন করছে? বোঝার বাকি আছে? বোঝার বাকি নাই।’
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের সমর্থন হারিয়ে জনবিচ্ছিন্ন একটি দলে পরিণত হয়েছে। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার কথা বলে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে দায়িত্ব দিয়েছে। রাজপথের আন্দোলনে এমন জনস্রোত হবে যে, আওয়ামী লীগের লাঠিসোঁটা নিয়ে পালাতে বাধ্য হবে। রাজপথে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
খসরু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে চলে গিয়েছে। সেই কারণে তারা বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার সাহস হারিয়ে ফেলেছে। কাকে দিয়ে মোকাবেলা করাচ্ছে ? ওই দখলবাজ, ওই টেন্ডারবাজ, ওই লুটপাটকারি যারা আওয়ামী লীগের রাজত্বে পকেট ভর্তি করেছে। তারাই হচ্ছে আজকে আওয়ামী লীগের একমাত্র সমর্থক। এছাড়া তাদের কোন সমর্থ নেই।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশের একটি অংশ আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে গেছেন বা নেতা হওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা এই পথে যাওয়ার চেষ্টা করবে। আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি আপনারা এই পথে যাইয়েন না। এটা আপনাদের জন্য ভালো হবে না, বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে না, এর জন্য ভালো হবে না। গণবিচ্ছিন্ন সরকারকে হঠাতে মানুষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাস্তায় নেমেছে, রাস্তা থেকে কেউ ফিরে যাবে না। আমরা কেউ ফিরে যাব না আমরা সবাই রাস্তায় থাকব তাদের পরাজিত করবোই।’
সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের রাস্তায় থাকতে হবে। তাবিথ আউয়ালের হাত ভেঙেছে, মাথা ফেটেছে কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে এসেছে। ও তো ঘরে বসে থাকতে পারত, কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে এসেছে। বাংলাদেশের কোনো শক্তি নাই এর প্রতিরোধ করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা যে আন্দোলনে নেমেছি তা শুধু বিএনপির একার নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের আন্দোলন। আমাদের আন্দোলন অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সুধী সমাজ যারা এ আন্দোলনের সামিল হয়েছে তাদেরও আন্দোলন। এ জন্য আগামী দিনে এই আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। বিজয় হওয়ার পরে যে জাতীয় সরকারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের মেহনতি মানুষের জন্য কাজ করব। শুধু এই ফ্যাসিস্টকে সরাব না, এরপর আগামী দিনের বাংলাদেশ কী হবে তার রূপরেখা আমরা সবার সামনে তুলে ধরব। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কামরুজ্জামান রতন, সরাফত আলী সপু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সুলতানা আহমেদ, তাবিথ আউয়াল, ছাত্রদলের সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।