কেনাকাটায় মুখর শাঁখারীবাজার

হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানীর পুরান ঢাকার প্রতিমা শিল্পীরা। মাটির কাজ শেষ। এখন চলছে রং ও প্রতিমা সাজানোর কাজ। জমজমাট পূজা পালনে অলিগলিতে এখনই পূজামন্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

প্রতিমার সাজ-পোশাক, জরি-চুমকিসহ মাঙ্গলিক সামগ্রী বিক্রির ধুম পড়েছে শাঁখারীবাজারের দোকানগুলোতে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে পুরান ঢাকার নর্থব্রুক হল রোড, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার ও কোতোয়ালি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মন্দির ও গলিতে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। মাটির কাজ শেষ। এখন চলছে রং ও প্রতিমা সাজানোর কাজ।

শাঁখারীবাজারের প্রবীণ মৃৎশিল্পী পল্টন পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। আগের তুলনায় কাজও কম। প্রতিমাপ্রতি খরচ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। স্বাধীনতার আগে থেকেই আমার বংশধররা প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছে। সেই সূত্রে আমি ও আমার বড় ভাই ৩৫ বছর ধরে এ কাজ করছি। বয়স হয়েছে। আগের মতো কাজ করতে পারি না। সিজন ছাড়া আমাদের খোঁজখবর কেউ নেয় না। কারিগরও পাওয়া যায় না। একজন কারিগর রাখলে ২৫-৩০ হাজার টাকা দিতে হয়। অনেকে কাজ ছেড়ে অন্যান্য ব্যবসা করছে। লাখ লাখ মানুষ আমার তৈরি ‘দেবীমুখ’ দর্শন করবে, এটা ভেবেই আনন্দ পাই।’

এদিকে ভিড় জমেছে প্রতিমা তৈরির উপকরণ বিক্রেতাদের দোকানেও। রাজধানীর সবচেয়ে বড় মাঙ্গলিক সামগ্রীর বাজার শাঁখারীবাজারের দোকানগুলোতে প্রতিমার সাজ-পোশাক, মাথার মুকুট, জরি-চুমকি ইত্যাদি কিনতে ব্যাপক ভিড় দেখা যায় ক্রেতাদের। এ ছাড়া ম-প সাজানোর নানা উপকরণও কিনছেন অনেকে।

দেবী দুর্গার সাজ-পোশাক কিনতে আসা সুদেব রায় নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘দুর্গা মায়ের সাজ-পোশাকের সবকিছুই শাঁখারীবাজারে পাওয়া যায়। অনেক দোকান। তাই বেশি ঘুরতে হয় না। তুলনামূলক দামও কম। তবে এ বছর দোকানিরা দাম একটু বেশি নিচ্ছেন।’ দাম বেশি নেওয়ার কথা স্বীকার করে বিক্রেতারা বলছেন, ক্রয় খরচ বেড়েছে, তাই খুচরা দামও সামান্য বেড়েছে।

নর্থব্রুক হল রোডের মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন মৃৎশিল্পী বলাই পাল। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেক কাজের অর্ডার পেয়েছি। কাজ শেষ। এখন রং ও সাজের কাজ চলছে। আগে রং-তুলি দিয়ে কাজ করতাম। অনেক সময় লাগত। এখন তুলির কাজ কম। স্প্রে মেশিনে রং করলে সময় কম লাগে। দেবীকে মর্ত্যে ফুটিয়ে তোলাই মৃৎশিল্পীদের আনন্দ।’

প্রতি বছরই রাজধানীর পুরান ঢাকায় জমজমাট হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা পালন করা হয়ে থাকে। আর মাত্র হাতে কয়েকটা দিন। এখন থেকেই অলি-গলিতে পূজামন্ডপ তৈরির কাজ শুরু করেছে বিভিন্ন পূজা কমিটি। নতুন করে সাজানো হচ্ছে মন্দির। আশি^ন মাসে প্রায় ১০ দিন ধরে দুর্গাপূজার উৎসব পালিত হয়। যদিও প্রকৃত অর্থে উৎসব শুরু হয় ষষ্ঠীর দিন থেকে। দুর্গাপূজার পাঁচ দিন মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী এবং বিজয়া দশমী হিসেবে পরিচিত।