কুনিও হত্যা: ৪ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল, একজন খালাস

জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি হত্যা মামলায় চার জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল ও একজনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এ রায় দেন।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে ইছাহাক আলীকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (৩৩), লিটন মিয়া ওরফে রফিক (৩২), সাখাওয়াত হোসেন (৩০) ও পলাতক আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব (২৪)।

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মল কুমার দাস। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসান উল্লাহ। 

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। 

প্রসঙ্গত, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে গুলি করে হত্যা করা হয় ৬৬ বছর বয়সি জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে। ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক চেজারে তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিনের মাথায় একই কায়দায় রংপুরে এই জাপানি নাগরিককে হত্যার ওই ঘটনা সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোড়ন তোলে। মামলার অভিযোগপত্রে আট আসামির নাম থাকলেও তাদের দুজন আগেই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

বিচার শেষে ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার রায় ঘোষণা করেন। জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (৩৩), ওই জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া ওরফে রফিক (৩২), সাখাওয়াত হোসেন (৩০) ও পলাতক আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লবের (২৪) ফাঁসির আদেশ আসে সেই রায়ে।

একই বছরের ৭ মার্চ নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স আসে হাইকোর্টে। পাশাপাশি আসামিদের পক্ষে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।