নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তৌসিফ (১১) নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সৎ বাবা ও মা মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা।
তবে মায়ের দাবি, তার ছেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকেই সৎ বাবা জুলহাস মিয়া পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার শিমুলিয়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।
তৌসিফ উপজেলার পাইস্কা এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। সে জনতা স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
জামাল উদ্দিন জানান, গত ২০০৮ সালে পাইস্কা এলাকার আব্দুর রহমানের মেয়ে শিলা আক্তারকে বিয়ে করেন জামাল উদ্দিন। এরপর তাদের সংসারে তৌসিফের জন্ম হয়।
এক বছর আগে শিলা আক্তার জামাল উদ্দিনের বোন আমেনা আক্তারের স্বামী জুলহাস মিয়ার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। আমেনার সংসারে ৩ মেয়ে রয়েছে। একপর্যায়ে জামাল উদ্দিনকে ডিভোর্স দিয়ে শিলা আক্তার জুলহাস মিয়াকে বিয়ে করেন। বিয়ে করার পর আমেনা আক্তার বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন। প্রথম স্ত্রীর করা ওই মামলায় জুলহাস মিয়া জেলও খাটেন।
এরপর আদালত থেকে জামিনে এসে ৩ কন্যা সন্তানসহ আমেনা আক্তারকে জুলহাস মিয়ার পাইস্কার বাড়িতে রাখেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী শিলা আক্তারকে শিমুলিয়া এলাকার শাকিল মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছেন। জামাল উদ্দিন একমাত্র সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে চাইলেও সাবেক স্ত্রী শিলা আক্তার নিজের কাছে (শিমুলিয়া এলাকার ভাড়া বাড়িতে) রেখে দেন।
জামাল উদ্দিন আরও জানান, রাত অনুমান সোয়া ৮টার দিকে তার ছেলে তৌসিফকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখে মা শিলা আক্তার ও সৎ বাবা জুলহাস মিয়া। পরে জামাল উদ্দিনের বাড়িতে লাশ নিয়ে এসে বলা হয় ছেলে তৌসিফ আত্মহত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে তৌসিফের মা শিলা আক্তার জানান, তিনি সন্ধ্যায় কাঞ্চন বাজারে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। ওইখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দেরি হয়। সাড়ে ৮টার দিকে শিলাকে খবর দেয়া হয় ছেলে তৌসিফ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
তবে এ ঘটনায় তিনিসহ সৎ বাবা জুলহাস মিয়া জড়িত নয় বলেও দাবি করেন শিলা আক্তার।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, এটি হত্যা না আত্মহত্যা এখন বলতে পারছি না। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন আসলে প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে।
এ ঘটনায় শিশুর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগ দিয়েছেন।