রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দিতে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের রুশপন্থি স্বাধীনতাকামীরা। পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের পাশাপাশি বন্দরনগরী খেরসন ও জাপোরিঝিয়ায় এই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । রাশিয়ার অংশ হওয়ার লক্ষ্যে শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই চার অঞ্চলে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। খবর আল জাজিরার।
খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার নিয়োগ দেয়া কর্মকর্তারা মঙ্গলবার (২০ সেপেটম্বর) এক বিবৃতিতে বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে খেরসনকে যুক্ত করা নিয়ে তারা গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে, রুশ পার্লামেন্টের স্পিকার বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে যদি খেরসনের জনগণ ভোট দেন, তবে তিনি তা সমর্থন করবেন।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাস বলেছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর আগেই দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক (ডিপিআর) ও লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক (এলপিআর) নামে দুটি অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর মধ্যে লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের পক্ষ থেকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে একটি গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একজন বলেন, তিনিও মস্কো-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবকে সমর্থন করছেন। এতে ইউক্রেনের বিশাল অঞ্চল ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে। কিয়েভকে সমর্থনকারী পশ্চিমাদের ওপরও চাপ বাড়বে।
এ প্রসঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে গণভোটের আয়োজন হবে কি-না, সে সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলের লোকজনের। শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি, ওই সব এলাকার লোকজনের ভাগ্য তাদের নিজেদেরই নির্ধারণ করতে হবে’।
ইউক্রেনে রুশ অধিকৃত এই চার অঞ্চলের পরিকল্পনা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অঞ্চলগুলোর এ সিদ্ধান্ত ইউক্রেন সংঘাতের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা এই গণভোটের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা বলেছেন, ‘রাশিয়া তাদের ইচ্ছেমতো যা খুশি করুক। নিজেদের ভূখণ্ড মুক্ত করার অধিকার ইউক্রেনের আছে এবং রাশিয়া যাই বলুক না কেন, আমরা সেগুলো মুক্ত করবই’।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সাত মাসে গড়িয়েছে। এ লড়াইয়ে ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ সেনারা। তবে সম্প্রতি ইউক্রেনের সেনারা পাল্টা হামলা শুরু করেছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের সেনাদের কাছে কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রাশিয়ার সেনারা।
এ পরিস্থিতিতে পুতিন এখন যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। এরমধ্যেই গত সোমবার দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা রাশিয়ায় যোগদানের জন্য গণভোটের পরিকল্পনায় সম্মতি দেন। গণভোটের সিদ্ধান্ত নেয়া এ চার অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ, যা প্রায় হাঙ্গেরির আয়তনের সমান।