দীর্ঘ চ্যাম্পিয়নস প্যারেড শেষে সাফজয়ী নারী ফুটবল দল বাফুফে ভবনে এসে প্রথমেই দেখা করে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যার প্রচেষ্টায় এক রাতের মধ্যে ছাদ খোলা বাসের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছিল, সেই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। খেলোয়াড়রা বাফুফে প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আসেন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে একটু দেরিতে উপস্থিত হন প্রতিমন্ত্রী। কাছে পেয়ে দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন মন্ত্রীকে এমন একটা বাস দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী কথা দিয়েছেন, এটা সবে শুরু। মেয়েদের জন্য, ফুটবলের জন্য সরকার আরও অনেক বড় উপহার নিয়ে হাজির হবে অচিরেই।
কী সেই উপহার? সংবাদ সম্মেলনে সেটা জানতে চাওয়া হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই উঠে এসেছে ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দিতে সরকারপ্রধান এখন রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানালেন, হাজার মাইল দূরে থাকলেও মেয়েদের এই সাফল্যের খবরে ঠিকই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশে এলে এই মেয়েদের কাছে ডেকে যে শেখ হাসিনা অনুপ্রাণিত করবেন, তা সবারই জানা। তবে রাসেল দিয়েছেন আরও বড় সুসংবাদ। জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ফুটবল উন্নয়নে দেওয়া পাঁচ বছরে সাড়ে চারশ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথা, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন একজন ক্রীড়া অন্তপ্রাণ মানুষ, ওনাকে অনেক সময় অনেক কিছু বলতেই হয় না। কিছুদিন আগেও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই করোনার মধ্যেও মেয়েদের ডেকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে অবশ্যই বড় কিছু হবে। বিশ্বাস করি মেয়েদের সাফল্য বদলে যাবে ফুটবল।’ বাফুফের প্রস্তাব প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও অ্যাকাডেমি তৈরির জন্য ফুটবল ফেডারেশন আমাদের কাছে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার একটা প্রকল্প জমা দিয়েছে। এই প্রকল্প চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে। এই প্রকল্পের মধ্যে চারটি জেলায় চারটি অ্যাকাডেমিও থাকবে। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর এই প্রকল্প যখন আমরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেব, আমার বিশ্বাস বাধা ছাড়াই এটা অনুমোদন পাবে। এত বড় একটা বিজয় হয়েছে, সবাই উৎসবে ভাসছে। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার জন্য।’
ফুটবলের উন্মাদনা দেখে অভিভূত মন্ত্রী। বোঝাই যাচ্ছে এবার সরকার ফুটবল উন্নয়নে নড়েচড়ে বসবে। সাবিনাদের এই বিজয়টা আসলে ফুটবলের সামগ্রিক চিত্রটাকেই পাল্টে দিচ্ছে।