সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকার

বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) প্রায় ৬০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল জমে আছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো)। বকেয়া পড়ায় সিটি করপোরেশন এলাকার সড়কবাতি ও পানির লাইনের বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিন্ন করেছে ওজোপাডিকো। গত রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এই সংযোগ-বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান শুরু করে ওজোপাডিকো।

এর ফলে ওইদিন থেকে নগরের সড়কবাতি জ্বলছে না। পানি-সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই পুরো নগর ভুতুড়ে অন্ধকারে ডুবে যায়। পানি-সরবরাহ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন নগরের বাসিন্দারা।

সিটি করপোরেশন বলছে, তারা গত ১৫ সেপ্টেম্বর বকেয়া বিলের একাংশ পরিশোধ করেছে। তারপরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন জানিয়েছে বকেয়া বিল গ্রহণের তিন দিন পরে সড়কবাতির এবং পানির বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে পূর্বে অবহিতি ছাড়াই।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় নগরের ৩০টি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভুতুড়ে গলিতে পরিণত হয়েছে। রাত্রীকালীন চলাচলে বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। সিটি করপোরেশন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন নগরবাসীরা।

ওজোপাডিকো লিমিটেড বরিশালের পরিচালনা ও সংরক্ষণ সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বিশ্বাস গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘কমপক্ষে ১০ বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে না সিটি করপোরেশন। বড় একটি অঙ্ক দাঁড়িয়েছে। টাকা তুলতে না পেরে আমরাও মন্ত্রণালয়ের চাপে রয়েছি। অতঃপর করপোরেশনের সড়কবাতির বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান শুরু হয়েছে। রবিবার শুরু হয়েছে, অভিযান চলছে।’ তিনি বলেন, ‘ধরুন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঁচ লাখ টাকা পাব, সে যদি দশ হাজার টাকা শোধ করে, তাহলে কেমনে মেনে নেওয়া যায়? সরকারের কাছে আমাদেরও তো জবাবদিহি করতে হয়।’

পরিচালনা ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম তারিকুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে প্রায় ৬০ কোটি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল রয়েছে। পাওনা শোধের জন্য অসংখ্যবার তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন আশানুরূপ সাড়া দেয়নি। সর্বশেষ পরিশোধের তারিখ ছিল ১৮ সেপ্টেম্বর। ওইদিনও তারা পরিশোধ করেনি। ফলে সড়কের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হচ্ছে।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সড়কের লাইন বিচ্ছিন্ন করছি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। সিটি করপোরেশন তাদের ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে বিচ্ছিন্ন লাইন জুড়ে দিয়ে আবারও বাতি জ¦ালাচ্ছে। এরকম চললে সরকারি টাকা আদায়ের উপায় দেখি না।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস গতকাল বলেন, ‘১৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিলের ৭৮ লাখ টাকা গ্রহণ করে ওজোপাডিকো। ১৮ তারিখ তারা নগরের সব সড়কের বিদ্যুৎলাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কার অনুমতি নিয়ে এই কাজ করল তারা বলতে পারছি না। আমাদের কিছুই জানায়নি। এখন পর্যন্ত নগরীর সব সড়কের ও পানির লাইনের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।’

বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহমেদ গতকাল বলেন, ‘আমি তিন দিন ধরে ঢাকায় আছি। বিস্তারিত জানি না। যেসব বিল বকেয়া পড়েছে সেসব ১০-১২ বছর আগের। বিষয়টির সমাধানের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে।’

নগরীর বটতলার বাসিন্দা ইব্রাহীম জানান, ‘তিন দিন ধরে সড়কে বাতি জ্বলছে না। করপোরেশনের পানির লাইনেও পানি আসছে না। আমরা ভোগান্তিতে রয়েছি।’ বাংলাবাজারের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমরা শুনেছি বিদ্যুৎ-খরচ কমাতে সড়কবাতি বন্ধ করা হয়েছে। এখন শুনছি সিটি করপোরেশন বিল বকেয়া করেছে। বিল পরিশোধ করতে পারে না, তারা কী পরিষদ চালায়!’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম গতকাল বিকেলে বলেন, ‘বিষয়টি খেয়াল করে আমরা শহরজুড়ে পুলিশের টহল বাড়িয়েছি।’