মানসিক প্রতিবন্ধী রোগীদের চিকিৎসা না নেওয়ার পেছনে দায়ী সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। পাশাপাশি চিকিৎসাব্যবস্থার অপ্রতুলতা রয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, নাসিরুল্লাহ
সাইকোথেরাপি ইউনিট, ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশন ও ডিজঅ্যাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিটের আটজন গবেষক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে এ জরিপ করেন। গবেষণায় দলভিত্তিক জরিপে বিভিন্ন পেশার ১৯৩ জন এবং ২৩ জন পেশাজীবীর ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন গবেষণাকর্মের মূল গবেষক মালয়েশিয়ার পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মনোবিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি গবেষক প্রদ্যুৎ রায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
এ সময় জানানো হয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, এবং সিলেটসহ ৮টি বিভাগে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী এবং প্রাপ্তবয়স্ক ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিদের ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসির প্রতিনিধি ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, স্কুলে স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। আপনারা এতে সহযোগিতা করুন। আমরাও আপানাদের পাশে আছি। এছাড়া গবেষণার জন্য আমাদের একটি সেল আছে। আপনারা গবেষণায় এগিয়ে এলে আমরাও সহযোগিতা করতে পারি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায়। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সুরক্ষা আইন হয়েছে। ৩৪টি হাসপাতালে এনডিডি কর্নার আছে। তিন মন্ত্রণালয় মিলে কাজ করছে।
এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, যুক্তরাজ্য থেকে আগত এডিডি ইন্টারন্যাশনালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মিজ ম্যারি অ্যান ক্লেমেন্টস, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মনিরা রহমান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কমিউনিটি ও সামাজিক সাইকিয়াট্রি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. ফারজানা রহমান দিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম আমানুউল্লাহ প্রমুখ।