নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পল্লী বিদ্যুতের ১১ কেভির (১১ হাজার ভোল্ট) সঞ্চালন লাইনের তার প্রবল বাতাসে একটি খুঁটি থেকে খুলে গিয়ে মাটি থেকে প্রায় তিন-চার ফুট উঁচুতে ঝুলে ছিল। স্থানীয়রা মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানোর পরেও এবং তার ঝুলে পড়ার ১১দিনের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তড়িৎ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। সেই ঝুলে থাকা তারের সংস্পর্শে প্রাণ গেল মরম আলী (৪৮) নামের এক ব্যবসায়ী ও কৃষকের। এ ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনা কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের টেংগা গ্রামে।
শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে মরম আলীর মৃতদেহ বাড়ির দক্ষিণ দিকে নিজের বপন করা আমন ধানের খেতে ঝুলের থাকা তারের নিচ থেকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে নিহতের স্বজনেরা। মরম আলী একই গ্রামের মৃত আ. হেকিমের ছেলে। তিনি গোতুরা বাজার হয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন বাসের টিকিট মাস্টার ও এ বাজারে পোলট্রি মুরগি বিক্রেতা এবং কৃষকও তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে খাবারের জন্য মরম আলী গোতুরা বাজার থেকে বাড়ির দিকে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ থাকেন ও রাতেও বাড়িতে ফেরেননি। পরদিন সকাল ৬টার দিকে তার ভাই সবুজ মিয়া বাড়ির দক্ষিণ দিকে আমন ধানের খেত দেখতে যান। মরম আলীকে তার নিজের ধান খেতের মাটির উপড়ে ও ঝুলে থাকা তারের নিচে পড়ে থাকতে দেখেন সবুজ মিয়া। পরে উদ্ধার করে কলমাকান্দা স্বাস্থ্য নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কলমাকান্দা হাসপাতালের ডা. সৌরভ ঘোষ জানান, চুল ও মাথার একাংশ পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা ও নিহতের স্বজনদের কথা বলে জানা গেছে বিদ্যুতের শকের কারণে এমনটি হয়েছে।
নিহতের চাচার আমান উল্লাহ জানান, গত ১১-১২ দিন পূর্বে দুই দফায় প্রবল বাতাসে পল্লী বিদ্যুৎের মেইন লাইনে একটি খুঁটি থেকে তিন তারের (১১ কেভি) এক তার খুলে ঝুলে ছিল। বিষয়টি জানানোর জন্য পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে ফোন দিলে তারা মোবাইল ধরেনি। পরে বিষয়টি গোতুরা বাজারে পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশনে থাকা লোকদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের লোকজন ঝুলে থাকা তারের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে আমার ভাতিজার প্রাণ যেত না।
কলমাকান্দা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান জানান, অভিযোগের বিষয়টি জানা নেই।
স্থানীয়রা গোতুরা বাজারে সাবস্টেশনে থাকা লোকজনকে ঝুলে থাকা তার বিষয়টি অবগত করেছে প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এলাকা ভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া আছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবদুল আহাদ জানান, বৈদ্যুতিক শকের বিষয়টি চিকিৎসকের প্রতিবেদনে রয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।