১২ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

প্রায় ১২ বছর পলাতক থাকার পর একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি মো. আলকেসকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। গত শুক্রবার রাতে বরিশাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে বাসু মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত প্রধান আসামি আলকেস।

ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ২০১২ সালে বাসুর ওপর আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে আক্রমণ করেন তিনি। এক পর্যায়ে তার কাছে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করলে মাথায় লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যান বাসু। এ ঘটনায় আলকেসসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে রাজধানীর শাহ আলী থানায় হত্যা মামলা করেন বাসুর ভাই চিনু মিয়া।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আলকেস ঠিকানা পরিবর্তন করে ছদ্মবেশ ধারণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। ওই সময় নিজের পরিচয় গোপন করার জন্য ক্রমাগতভাবে তিনি পেশা পরিবর্তন করতেন। বরিশাল গিয়ে ট্রাকচালকের সহকারী ও পরে চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। বেপরোয়াভাবে বাস চালানের সময় সিলেটে তার বাসের নিচে চাপা পড়ে একজন নিহত হয়। এ ঘটনায় সিলেটের ওসমানী নগর থানায় পরিবহন আইনে তার বিরুদ্ধে পুনরায় হত্যা মামলা হলে তিনি পালিয়ে কুয়াকাটায় মাছ ধরার ট্রলারে কাজ শুরু করেন। তখন মাছ ধরার পাশাপাশি সাগরে বিভিন্ন ট্রলারে ডাকাতি করতেন তিনি। গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত গত দেড় বছর ধরে একটি দূরপাল্লার যানের চালক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন আলকেস।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, বাসু হত্যা মামলা হওয়ায় চার মাস জেল খেটে জামিনে মুক্তি পেয়ে আলকেস এলাকায় অবৈধ বালুর ব্যবসা শুরু করেন। বাসু হত্যা মামলার আসামি আজাহার ও সানুর সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় আলকেসের নেতৃত্বে সাভার থানা এলাকায় ওই দুজনকে হত্যা করা হয়। এ মামলায় তিনি পলাতক আসামি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং সংরক্ষণ করার অপরাধে পরিবেশ অধিদপ্তর তার বিরুদ্ধে শাহ আলী থানায় করা এ মামলায়ও তিনি পলাতক আসামি।