বাঙালির আত্মপরিচয়ের ধান ফসল বীজ

বাঙালি সাহিত্যের গদ্যভাষাটা সম্পূর্ণ আলাদা। জীবনধর্মী ভাষায় নতুন নতুন শব্দ এতে স্থান পায়। ঔপনিবেশিক যুগে যা ছিল কল্পনার অতীত, সেই পূর্ববঙ্গের ‘মুসলমান প্রজার ভাষা’ পাকিস্তান পর্বেই বাঙালির সাহিত্যে স্থান পেল। হাজার বছরের সাহিত্যিক বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে চাইল একটি সমাজ। প্রতিভার অভাবে তা পূর্ণতা যে পায়নি, তা সত্য। ‘মুসলমান’ না ‘বাঙালি’ এই আত্মদ্বন্দ্বেও বহু প্রতিভা বিনষ্ট হয়ে গেছে। এই আত্মদ্বন্দ্ব রাজনীতির যতটা ক্ষতি করেছে তার অধিক ক্ষতি করেছে সাহিত্যের।

একাত্তরের যুদ্ধ বাংলাদেশের বাঙালিকে প্রজাতি বিচ্ছিন্নতার (অপরাপর বাঙালি থেকে) ভেতর দিয়ে উন্নত প্রজাতি উদ্ভবের যে মহাসুযোগ সৃষ্টি করেছিল, বাঙালি অবহেলায় তার বেশ ক্ষতি করেছে। এটা বৈজ্ঞানিক সত্য যে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভেতর দিয়ে নতুন অভিবাসন মাত্রায় দল থেকে হারিয়ে যায় কিছু অভিযাত্রী। অস্তিত্বের সংগ্রাম চলে নতুন পরিবেশে। ঘনায়মান হয় বিবর্তনকাল। ঘটে প্রাণের বিবর্তন, প্রাণীর বিবর্তন। এভাবেই সশস্ত্র সংগ্রাম একাত্তরে পূর্ববঙ্গের বাঙালিকে রাজনৈতিক জিনগত বিবর্তন ঘটিয়ে যুদ্ধ, রক্ত, দুর্ভিক্ষ, কষ্টসহিষ্ণু, চেতনা উৎকর্ষকারী, কূপম-ূকতা-বর্জিত উচ্চাকাক্সক্ষী উন্নত বাঙালিকে উন্নত প্রজাতির বিবর্তন পথে পা বাড়াতে হয়। বিষয়টি অতিপ্রাকৃতিক, অলৌকিক কোনো ঘটনা নয়, বিজ্ঞান-বস্তুবাদের দ্বান্দ্বিক নিয়মেই ঘটেছে।

ঔপনিবেশিক যুগে কলকাতা নগরে নদীয়া-শান্তিপুরের স্থানীয় মৌখিক ভাষাকে কেন্দ্র করে চলিত বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটে। মৌখিক ও সাহিত্যিক ওই ভাষার উদ্ভব সম্ভব করেছে ঔপনিবেশিক আশ্রয়-প্রশ্রয়। কলকাতা অঞ্চলের আদিভাষা হারিয়ে গেছে। আছে শুধু বাংলা গদ্যের উদ্ভব যুগের রচনায়। কিন্তু, একাত্তর-উত্তর বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকাকে কেন্দ্র করে মৌখিক এবং লেখ্য নতুন ধরনের বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটছে, যা এখনো চলমান। বাংলাদেশের নানা অঞ্চলের মানুষ ভিড় করছে ঢাকায়, নতুন আবাসন গড়ছে, নানা জেলার ভাষার মিশ্রণ ঘটছে, নতুন লেখা আর চলিত বাংলার সৃষ্টিকাল চলছে। এ ভাষা ঔপনিবেশিক আশ্রয়ে গড়া সাহিত্যিক বাংলা নয়, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্রীয়সত্তা, ব্যক্তিসত্তা আর রাজনৈতিক সত্তারই ফসল।

বাংলাদেশের সাহিত্যের ভাষা ও ভাষারীতি কলকাতার গদ্যরীতি থেকে আলাদা। ভাষা বিজ্ঞানের ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, শব্দতত্ত্ব বিচার করলে পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়। ধ্বনি পরিবর্তনের সূত্রগুলোর দিকে তাকালে তা সহজেই ধরা যায়। আঞ্চলিক শব্দের বহুল ব্যবহার ঘটিয়ে অর্থাৎ হাজার বছর সাহিত্যের ভাষায় আঞ্চলিক শব্দকে বর্ণবাদী দৃষ্টিতে ব্রাত্য রাখার প্রতিক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গি পরিত্যাগ করে বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিকরা এগিয়ে যাচ্ছেন। বাংলা গদ্যের প্রতিক্রিয়াশীলতা ভেঙে পড়ছে ঢাকার সাহিত্যে। এ কথার অর্থ এই নয় লেখকরা অকারণে অপভাষা বা অশ্লীল শব্দ আমদানি করবেন। অশ্লীল শব্দে গদ্যরচনা কখনো সাহিত্যের প্রগতিশীলতা, বিপ্লবীপনা বা উদার গণতান্ত্রিকতা নয়।

বাংলাদেশের বাঙালিকে পৃথিবীর অপরাপর বাঙালি থেকে প্রজাতি বিচ্ছিন্নতার ভেতর দিয়ে উন্নত প্রজাতিতে বিবর্তিত হতে সহায়তা করেছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং সুদীর্ঘ সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী বিদ্রোহ। এ ধরনের অভিজ্ঞতা বা অর্জন বিশ্বের অন্য কোনো বাঙালির নেই। অন্যদিকে আইয়ুবী সামরিক শাসনামলে ইরানি পারসি বা পহলভি হরফকে আরবি হরফে রূপান্তর কিংবা উর্দুকে আরবি হরফে রূপ দেওয়ার প্রাচীন অতীত স্মৃতিকে সামনে রেখে বাংলা বর্ণমালাকে রোমান হরফে লেখার তৎপরতা পূর্ববঙ্গের বাঙালিকে বিদ্রোহের ইন্ধন দেয়। সেই বিদ্রোহ বিচ্ছিন্নতারই নামান্তর।

স্বাধীন বাংলাদেশের সাহিত্যের জন্য ঐতিহাসিক কারণেই নতুন ভাষারীতির যে প্রয়োজন তাকে অস্বীকার করা প্রতিক্রিয়াশীলতারই নামান্তর। কেননা পূর্ববঙ্গের জনসংস্কৃতি জনজীবন এবং জনমানস সাহিত্যে স্বতন্ত্র ধারারই উপাদানে পরিপূর্ণ। তরুণ কবিদের কবিতায় এর প্রবণতা দেখা যায়। প্রয়োজন শুধু প্রথাভাঙার সাহস এবং প্রতিভা।

আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলার আতঙ্ক চিরকাল পূর্ববঙ্গের মানুষের ভৌতিক ছায়ার মতো পিছু নিয়েছে। ঔপনিবেশিক যুগ অবসানকালে অখন্ড ভারতবর্ষে ‘ভারতীয়’ পরিচয় গ্রহণ করেনি তারা। দ্বিধা-দ্বন্দ্বের ভেতর ‘পাকিস্তানি’ পরিচয়ের জোয়াল কাঁধে নিলেও কালবিলম্ব না-করে তা ঝেড়ে ফেলে দেয়। বৃহৎ বঙ্গের, অখন্ড বঙ্গের বৃহতের ছদ্মবেশী গৌরবও গ্রহণ করেনি। বারবার ভেঙেছে, নিজেকে, বিচ্ছিন্ন করেছে ‘অপর’ থেকে। আকারে ছোট করেছে আপন চেনা ভূসীমানাকে, কিন্তু ‘ক্ষুদ্র’ হয়নি। ৫৬ হাজার বর্গমাইল ভূখন্ড নিয়েই স্বাধীন হয়েছে। মাটির পরতে পরতে বুনেছে আত্মপরিচয়ের ধান, ফসল, বীজ।

পূর্ববঙ্গের এই আচরণীয় বৈশিষ্ট্য মোটেই, কূপমন্ডকতা নয়। স্বাধীন থাকার ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা তার ইতিহাসের অংশ। হয়তো পারেনি। হাজার বছর ধরে একটার পর একটা পরাধীনতার উত্তুঙ্গ ঢেউ আছড়ে পড়েছে। মুঘল যুগে, পাল-সেন যুগেও স্বাধীন হতে চেয়েছে। ইচ্ছে পূর্ণ হয়নি। জলা, জঙ্গলে পূর্ণ এই আশ্চর্য ভূখন্ডকে শতাব্দীর পর শতাব্দী অপেক্ষা করতে হয়েছে একাত্তরের যুদ্ধের জন্য। প্রজাতি বিচ্ছিন্নতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য ‘বাঙাল-বাঙালিকে’ বিবর্তিত হতে হয়েছে লক্ষ-কোটি তমস-রজনীর প্রহর পেরিয়ে। জাতি হিসেবে, রাষ্ট্র হিসেবে এখন চলছে তার গঠন-পুনর্গঠনের কাল। সভ্যতা নির্মাণের এই সাধনা বড় সহজ নয়। কেননা একটি প্রজাতি তাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে পারে পরিবেশ-প্রকৃতির ভেতর বারবার নিজেকে পাল্টে যোগ্যতম প্রাণী হওয়ার ক্ষমতা অর্জনের ভেতর। ব্যর্থ হলে প্রজাতি বিলুপ্তির ফসিল-ইতিহাসে ঠাঁই নিতে হবে তাকে।

বিশ্ব ব্রহ্মা- সৃষ্টি তত্ত্বের দিকে আমরা তাকাতে পারি। মহাবিস্ফোরণ। পরস্পর বিচ্ছিন্ন কোটি কোটি সৌরজগৎ সৃষ্টি। অগণন গ্রহ-নক্ষত্র। দেখা যাচ্ছে সৃষ্টির পেছনে বিচ্ছিন্নতা একটি সূত্র হিসেবে কাজ করেছে। বিশ্ব সৃষ্টির পেছনে বিচ্ছিন্নতা একটি সূত্র হিসেবে কাজ করেছে। বিশ্ব সৃষ্টিতে যেমনি লুকিয়ে আছে কার্য-কারণ, বাঙালির প্রজাতি বিচ্ছিন্নতা অকস্মাৎ কোনো ফল নয়। জাতি গঠন, জাতি বিবর্তনের সুদীর্ঘকালের ক্রিয়া মাত্র। আমাদের বিশ্বাস মহাবিস্ফোরণের (১৯৭১-এর যুদ্ধ) পর দীর্ঘ সময় ধরে ক্রম পরিবর্তনের পথ ধরেই প্রাণী বা প্রাণের সৃষ্টি হয়েছে যেমনি, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের নতুন প্রজাতির বাঙালিরও বিকাশকাল চলছে বর্তমানে। আরও উন্নত প্রজাতি স্তরে পৌঁছাতে আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে।

অন্যদিকে স্বাধীন বাংলাদেশের বাইরে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুটি উপ-প্রজাতি বাঙালিকে দেখা যায়। একদলের সৃষ্টি বাংলা ভাগজনিত কারণে ভারতবর্ষের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া নতুন প্রজাতি। অন্য দলটি দেশত্যাগী স্বপ্নপূরণযাত্রী অভিবাসী বাঙালি। ওদের অবস্থান ইউরোপ-আমেরিকায়। মাটি-মূল-শেকড় বিচ্ছিন্ন করে পূর্ববঙ্গের অনেক বাঙালি দেশভাগের বিপর্যয়ের ভেতর দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে অচিহ্নিত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। অস্তিত্বের সংগ্রামে যারা হেরে যায় তাদের অকাল অপমৃত্যু ঘটে পথে-ঘাটে-উদ্বাস্তু শিবিরে ক্ষুধা, ব্যাধি আর অসম জীবনযুদ্ধে। বাকিরা পতঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে নগরে গ্রামে। নতুন জীবনকে এরা চেনে না। এত দিন জাত-পাত-বর্ণ বিভক্ত মানুষগুলো গুটি বেঁধে থাকত আপন বর্ণের ভেতর পাড়া, গ্রামভিত্তিক সমাজে। দেশভাগের ফলে বিভিন্ন জেলার নানা জাতি-বর্ণের মানুষ চাল-ডাল-তৈল-সরষে মিশে একাকার হওয়ার মতো কায়েত-বাসুন-নমো-কৈবর্ত-ধোপা-নাপিত একশা। কিন্তু সবারই অন্তরে জাগ্রত আপন বর্ণ। বাইরে শুধু জীবনের নির্মমতা। জাত-পাতের এই মনস্তাত্ত্বিক টানাপড়েন দীর্ঘকাল পরেও আজও চলছে। কিন্তু বাস্তব জীবন তো অন্য কথা বলে। জীবন লড়াই, অস্তিত্বের যুদ্ধের ভেতর অসমবর্ণের বিয়ে চলে। কিন্তু জাগ্রত থাকে পুরুষতান্ত্রিকতা। তাই বিয়ে যে বর্ণের সঙ্গেই ঘটুক, পুরুষ স্বামীর জাতবর্ণের পরিচয়ই বহন করে সন্তান। এভাবেই ভিন্ন দেশের ভিন্ন পরিবেশে শরণার্থী বাঙালির প্রজাতি বিবর্তন ঘটে।

সংস্কৃতি, কি ধর্ম (লৌকিক), কি মৌখিক ভাষা, কি খাদ্যাভ্যাস, পোশাকপরিচ্ছদ আর নির্ভেজাল ‘বাঙাল’ থাকে না। পরিস্থিতিটা আরও জটিল হয়ে ওঠে সেসব শরণার্থীর বেলায় যাদের জোর করে বাংলা থেকে তুলে নিয়ে নিক্ষেপ করা হয় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে, ওড়িশার, দ-কারণ্যে কিংবা বাংলা-বিহার সীমান্ত এলাকায়। চারদিকে আদিবাসী মাঝখানে শরণার্থী বাঙাল। তৈরি হয় অদ্ভুত

সংস্কৃতি, কথ্যভাষা এবং স্থানীয় লোকাচারের মিশ্রণ। দেশভাগে পূর্ববঙ্গের বাঙালিকে এখন চেনা শক্ত। স্থানীয় রক্তধারার সঙ্গে মিশছে বাঙাল রক্ত। তৈরি হচ্ছে ভিন্ন প্রজাতির বাঙালি। এদের প্রচলিত জাত পরিচয় হচ্ছে আন্দামানী বাঙাল, পুরুলিয়ার বাঙাল, ঝারখন্ডী বাঙাল, কলকাতিয়া বাঙাল, শিলিগুড়ির বাঙাল, অসমিয়া বাঙাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে উন্নত বিশ্বে স্বপ্নপূরণের জন্য যেসব শিক্ষিত তরুণ অভিবাসী হতে যায় তারা অচিরেই পরিণত হয় গতর খাটা শ্রমিক কিংবা আধা শ্রমজীবীতে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার বর্ণমালা পড়ে কুয়াশায় ঢাকা। অভিবাসীরা ভাবে গোবেট মূর্খ-শিক্ষিতের এমন সাম্যসাধনা মার্কস-লেনিনও জানতেন না। ‘বেঙ্গলি-কমিউনিটি’ নামে বিলেত নিউ ইয়র্কে যে ‘গেটো’ তা দেখলে হিটলারের ইহুদি বন্দি শিবির বলে ভ্রম হয়। এখানেই উদ্ভব ঘটে শেকড়ছিন্ন বাঙালির এমন এক প্রজাতির, যারা প্রকৃত অর্থে উত্তরাধিকার হারা নতুন এক প্রজাতির বাঙালি। এদের সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে মিশ্রণ ঘটে কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান আর ‘ইউরোপের পিছিয়ে পড়া দেশের শ্বেতাঙ্গ উদ্বাস্তুদের কিংবা লাতিন আমেরিকার দরিদ্র শরণার্থী শ্রেণির। ঘটে ভাষার মিশ্রণ, সংস্কৃতির মিশ্রণ, গাত্র বর্ণের মিশ্রণ। নতুন এক বাঙালি প্রজাতি উদ্ভবের এ যেন জীববিজ্ঞানের বিস্ময়!

জীবন বিবর্তনের সূত্র ধরেই বাঙালির বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পাবে, বিবর্তন ক্রিয়া ঘটবে। মানুষের ক্রমবিবর্তন, ভাষার বিবর্তন, সংস্কৃতির বিবর্তন তো বিজ্ঞানবাদেই অংশ। গবেষণার দ্বারা আজ থেকে হাজার বছর পর নতুন বাঙালির প্রজাতি অবশ্যই আবিষ্কার করবে, এক দিন তাদের আদিপুরুষ একুশের ভাষা আন্দোলন করেছিল, একাত্তরে যুদ্ধ করেছিল। তারা বিস্মিত হবে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া তাদের উপগোত্রের সন্ধান পেয়ে। কথ্য আর লেখ্য ভাষার (বর্তমানকালের) রূপ দেখে বিস্মিত হবে। এটাই তো বিবর্তনবাদের ধর্ম, বৈজ্ঞানিক গতি-প্রকৃতি।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক