সৈকতের শহরে পর্যটন উৎসব

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে বসেছে সাত দিনের পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভ্যাল। গতকাল মঙ্গলবার শুরু হওয়া জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি আয়োজিত এ উৎসব চলবে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ‘পর্যটনে নতুন ভাবনা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে প্রথম দিনেই সৈকতের লাবণী পয়েন্ট সেজে উঠেছে বর্ণিল সাজে। শহরে বেড়েছে পর্যটকের সংখ্যাও। তাদের জন্য বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। জেলা প্রশাসনও তাদের হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ ও রিসোর্ট-রেস্তোরাঁয় বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে। 

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ মঙ্গলবার সকালে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট (এডিএম) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানান, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জানান, মেলায় ২০০ স্টল আছে। তাতে থাকছে কক্সবাজার ও সৈকতসংশ্লিষ্ট নানা স্মারক ও পণ্য।

সাত দিনের এ আয়োজনের মধ্যে আছে পর্যটনবিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, ঘুড়ি উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফানগেম, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক উৎসব, ফানুস উৎসব, বালি ভাস্কর্য, বিচ ভলিবল, ক্রিকেট, ম্যাজিক শো, আতশবাজি, ডিজে শো ও কনসার্ট।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও ঢাকার শিল্পীরা অংশ নেবেন। বিদেশি পর্যটকদের অংশগ্রহণে থাকবে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত এসব আয়োজন চলবে।

এদিকে মেলা চলাকালে শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে ২৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি। পাশাপাশি রেস্তোরাঁগুলোতে দেওয়া হবে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। দেশের একমাত্র ফিশ অ্যাকুরিয়াম রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড ৫০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া সৈকতের কিটকট (বিচ ছাতা), বিচ বাইক, ওয়াটার বাইক, প্যারাসাইলিং, ছবি তোলাসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবায়ও বিভিন্ন ছাড় থাকছে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘সমিতিভুক্ত প্রতিটি হোটেলে একটি কক্ষ ৮০০ টাকায় এক রাতের জন্য বুকিং দেওয়া হবে। অন্যান্য কক্ষ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে মালিকদের।’

কক্সবাজারের রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি নাইমুল হক চৌধুরী টুটুল জানান, উৎসবের সাত দিন পর্যন্ত তারা ১৫ শতাংশ হারে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।