বগুড়ায় হুমায়রা খাতুন নামে চৌদ্দ মাস বয়সী এক শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা জাকির হোসেনের (৪৫) বিরুদ্ধে। গত সোমবার রাতে শেরপুরের কুসুম্বী ইউনিয়নের উঁচুলবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে এলাকাবাসী জাকিরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তিনি ওই গ্রামেরই ইদ্রিস আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, জাকির হোসেন ও রাবেয়া খাতুন দম্পতির প্রথম সন্তান মেয়ে হয়। এরপর জাকিরের প্রত্যাশা ছিল ছেলে সন্তানের। কিন্তু আবারও এই দম্পতির ঘরে মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার গভীর রাতে কোনো একসময় হুমায়রাকে পুকুরের পানিতে ছুড়ে ফেলে হত্যা করে জাকির। গতকাল ভোরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। পরে জাকিরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
হুমায়রার মা রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘মধ্যরাতে ঘুম থেকে জেগে দেখি আমার মেয়ে হুমায়রা খাটের ওপর নেই। পরে পরিবারের সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে বিষয়টি জানাই। সেইসঙ্গে আমার বোন-দুলাভাইকে খবর দিই। প্রতিবেশীদেরও জানানো হয়। এরপর সবাই এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে আমার স্বামীকে চাপ দেন তারা। পরে মেয়েকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে আমার স্বামী জাকির।’