বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মুন্সীগঞ্জের যুবদল কর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন পুলিশের গুলিতে মারা যাননি মর্মে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মিথ্যা, বানোয়াট। পুলিশের গুলিতেই যে শাওন মারা গেছেন কার প্রমাণ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেট।’
বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) খুলনায় বিএনপি নেতা মরহুম আজিজুল হাসান দুলুর রাজনৈতিক জীবনের ওপর খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জের যুবদল নেতা শাওনের মৃত্যু হলো পুলিশের গুলিতে। তার বুক-মুখ গুলিতে ঝাঁঝরা হলো, সবাই দেখেছে। অথচ মুন্সীগঞ্জের পুলিশের এসপি বলছেন শাওন ঠেলাঠেলিতে নেতাকর্মীদের ছোঁড়া ঢিলে লেগে মারা গেছেন। আসলে তারা মিথ্যাচার করছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর মিথ্যাচার চাপিয়ে দিচ্ছে। তারা মুন্সীগঞ্জে আক্রমণ করেছে। নারায়ণগঞ্জে, ভোলায় আক্রমণ করেছে। অধিকার আদায়ের প্রশ্নে যারা নির্ভীক আন্দোলন করছে সত্যিকারের সৈনিক তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে ছাত্র রাজনীতির অনেক খারাপ ঘটনা শোনা যায়। ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের কুকর্মের ঘটনা ফাঁস হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যা ওয়াদা করেন তা বাস্তবায়ন করেন না। তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে বলেছেন যে, আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। তাহলে গত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন যে কারচুপি ও জালিয়াতি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী সেটা নিজের বক্তব্যে প্রমাণ করলেন। তিনি তো ১৯৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করতে গিয়ে হরতাল করেছেন। মানুষ পুড়িয়েছেন। গাড়ি ভেঙ্গেছেন। তিনিই আবার ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করেছেন। তিনি ১৯৯৫ সালে বলেছিলেন যে, বিরোধী দলে গেলে হরতাল করবো না। ৫৭ বছর বয়সে নাকি তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিবেন। তাহলে কোথায় তার কথার বাস্তবায়ন।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার ৭৬ তম জন্মদিন পালন করলেন। এখন মিডিয়াতে শুধু তার ছবি। সকালে, বিকেলে, রাতে। সবসময় তার ছবি দেখানো ও ছাপানো হচ্ছে। মিডিয়ায় তার জন্মদিনের ছবি ছাপতে বাধ্য করা হচ্ছে। এখন বলছেন যে, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আসলে শেখ হাসিনা হলেন সর্বকালের বিরল প্রজাতির সেরা মিথ্যাবাদী প্রধানমন্ত্রী।’
খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, সাবেক ছাত্রদল নেতা সাঈদ সোহরাবসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।