দুর্গাপূজার সবচেয়ে বেশি মণ্ডপ পুরান ঢাকায়

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় পার্বণ শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে এখন সারা দেশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতি বছর বাপের বাড়িতে আসেন মা দুর্গা। আর এই আগমনকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে পূজা মণ্ডপগুলো বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছে।

শনিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ৫ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই শারদোৎসবের। দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন, এ জন্যেই বিশ্বাস করা হয় যে, এই উৎসব খারাপ শক্তির বিনাশ করে শুভশক্তির বিজয় হয়। 

এবার দেবী গজে চড়ে আসছেন। গজে চড়ে দেবীর আগমনের অর্থ হল শুভ। মনে করা হয়ে থাকে দেবী যদি গজে চড়ে মর্ত্যে আসেন তাহলে তিনি সঙ্গে করে সুখ, সমৃদ্ধি নিয়ে আসেন। হাতি হচ্ছে জ্ঞান এবং সমৃদ্ধির প্রতীক।

দেবী দুর্গার আগমনকে উৎসবমুখর করে তুলতে ব্যস্ততার যেন শেষ নেই ভক্তদের।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বেশির ভাগ পূজা মণ্ডপেই বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা বলছেন, নিরাপত্তাজনিত কিছু হুমকি থাকলেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।

মহানগরের প্রতিটি পূজা মণ্ডপের প্রস্তুতি প্রায় শেষ বলে জানিয়েছেন সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ।

এ বছর সারা দেশে ৩২ হাজার ১৬৮টি এবং রাজধানীতে ২৪২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। মহানগর দক্ষিণে ১৫৪টি মণ্ডপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা হবে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর থানায়। এখানে মোট পূজামণ্ডপের সংখ্যা ২৬টি। শাঁখারীবাজার এলাকায় ১১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিমা তৈরির মধ্য দিয়ে পূজার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রতিমা তৈরি শেষে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন পুরোহিতরা।

সরেজমিনে পুরান ঢাকার নর্থব্রুক হল রোড, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার ও কোতোয়ালি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মন্দির ও অলিগলিতে চলছে পূজা উদ্‌যাপনের আয়োজন। সেখানে ছোট-বড় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। লাইটিং, প্যান্ডেল, প্রবেশদ্বার সাজানোসহ বিভিন্ন কাজে দেখা গেছে আয়োজকদের ব্যস্ততা।

এবার করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় আগের মতো বিশাল পরিসরে উদযাপনের প্রত্যাশা ভক্তদের।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগে শিক্ষার্থী যুথিকা লাবনী বলেন, ‘দুর্গাপূজা আমাদের সবচেয়ে বড় পার্বণ। গত বছর নানা বিধিনিষেধ এর জন্য আমরা সঠিকভাবে অনুষ্ঠান করতে পারিনি, এ বছর করোনার তেমন বিধিনিষেধ নেই। দেবী মা আবার তার বাপের বাড়িতে আসছেন।আমরা মাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত।’

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সব ধরনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, রাজধানীতে ২৪২টি মণ্ডপ রয়েছে। মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।পূজা উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে আমাদের যেমন ব্যাপক প্রস্তুতি থাকে, তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও ব্যাপক প্রস্তুতি থাকে।বড় মন্দিরগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

পূজা মণ্ডপগুলো সিসিটিভির আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে প্রতিটি পূজা মণ্ডপ পুলিশের নজরদারির আওতায় থাকবে। ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ডিবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা বাহিনীর লোকজন মোতায়েন থাকবে।

পুরান ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সূত্রাপুর থানার ওসি মইনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার থানায় ২৬টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপ আমরা সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছি। ২৪ ঘণ্টা আমাদের টিম সবগুলো মণ্ডপে উপস্থিত থাকবে।

এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চেকপোস্টে আমাদের পুলিশ ও আনসার বাহিনী ডিউটিতে থাকবে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।