পানির মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক সেবা চলে পাশের বাড়ি থেকে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা একটি। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুটি কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা। মির্জাপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাওয়ার কুমারজানি ও মহেড়া ইউনিয়নের ডোকলাহাটি কমিউনিটি ক্লিনিক দুটি রাস্তা থেকে অনেক নিচু জমিতে তৈরি করায় বছরের চার মাসই থাকে পানির মধ্যে। এসময়ে স্বাস্থ্যসেবা নিতে স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় ক্লিনিকের পাশের একটি বাড়ি থেকে এসময় সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এতে সুষ্ঠু সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামীণ মানুষজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের দেওয়া জমিতে কমিউনিটি ক্লিনিকটি নির্মাণ করা হয়। রাস্তা থেকে প্রায় ৬ ফুট নিচু জমিতে হওয়ায় বর্ষার শুরুতেই এর চারপাশে পানি এসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পানি একটু বেশি হলে এর ভেতরেও পানি প্রবেশ করে। এ সময় অন্যের বাড়িতে বসে চিকিৎসাসেবা দেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রতি বছরের মতো এবারও ক্লিনিকের পাশর্^বর্তী রহিজ উদ্দিনের বাড়িতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ৫০-৭০ জন রোগী নানা সমস্যা নিয়ে ওই বাড়িতে ভিড় করছেন। এতে বাড়ির মালিকের দৈনন্দিন কাজের ব্যাঘাত ঘটে।

বাওয়ার কুমারজানি গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্লিনিকের পাশেই আমার বাড়ি। মানুষের বাড়িতে গিয়ে ভিড় করে ওষুধ নেওয়া খুবই অস্বস্তিকর। রোগীরা ঠিকমতো তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন না।’

বাওয়ার কুমারজানি কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) জিয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘ক্লিনিকের চারদিকে বছরের চার মাসই পানি থাকে। তখন অন্যের বাড়িতে গিয়ে ওষুধ দিই। এতে আমাদেরও যেমন অসুবিধা হয়, মানুষেরও ভোগান্তি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

এদিকে উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের ডোকলাহাটি গ্রামেও রাস্তা থেকে অনেক নিচু জমিতে নির্মিত হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক। ক্লিনিকে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। বর্ষাতে এর চারদিকে এমনকি ভেতরেও পানি ঢোকে। ভিজে যাওয়ার ভয়ে ওষুধ আলমারিতে রাখা যায় না। পার্শ্ববর্তী আবেদ আলীর বাড়ি থেকে এ বছর ক্লিনিকের সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন আসেন সেবা নিতে।

ডোকলাহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘বর্ষাকালে যখন পানি বেশি হয় তখন অন্যের বাাড়িতে বসে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করি। পানি কমলে পরনের কাপড় ভিজিয়ে ক্লিনিকে যাই। পুরো সময় ভেজা কাপড় পরে কাজ করতে হয়। ক্লিনিকে আসা যাওয়ার একটি রাস্তা থাকলে এই ভোগান্তি অনেক কমে যেত।’

মহেড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের একাধিক সভায় ডোকলাহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যাপারে কথা বলেছি। অন্তত রাস্তাটা করা যায় কি না সে ব্যাপারেও কথা বলেছি। কোনো কাজ হয়নি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার চেয়ে একটু নিচু জমিতে ক্লিনিক দুটির অবস্থান। বর্ষার পানি এলেই চারদিকে পানি থাকে। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় ক্লিনিকের নিকটবর্তী বাড়ি থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার কাজ চলে আসছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’