সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যের মিল নেই। সেকেন্ডারি ডেটা গণমাধ্যম থেকে পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়। সঠিক তথ্য নির্ধারণে সরকারিভাবে পরিসংখ্যান রাখা উচিত।’
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোড সেইফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মহান জাতীয় সংসদে পাস হয় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮। বহুল আলোচিত এ আইন পাস হওয়ার চার বছর পূর্ণ হলেও তা বাস্তবায়নে বিধিমালা তৈরি হয়নি। ফলে সড়ককে নিরাপদ করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও আইনের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সড়কে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না শৃঙ্খলা, বাড়ছে মৃত্যু। তা ছাড়া, সড়ক পরিবহন বিধিমালা দ্রুত জারি ও এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কারণ সড়ক দুর্ঘটনা (রোড ক্রাস) বিশ^ব্যাপী মানুষের নিহত ও আহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে ব্র্যাকের রোড সেইফটি প্রোগ্রাম (প্রজেক্ট) ম্যানেজার এম খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার তার সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সড়ক দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বহুমাত্রিক হওয়ায় সরকারের একার পক্ষে তা নিরসন করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং কার্যকর উদ্যোগ।
রোড সেইফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশের সদস্য সংস্থাগুলো হলো: যথাক্রমে নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বুয়েট), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটি, বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন এবং ইম্প্রেসিভ কমিউনিকেশন লিমিটেড। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিবিউটরের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. শরিফুল আলম, কোয়ালিশনের সদস্য সংস্থার পক্ষ থেকে ব্র্যাকের রোড সেইফটি প্রোগ্রাম পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন, বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিচার্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. হাদিউজ্জামান, বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ প্রমুখ।