ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে একের পর এক পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এবছরের শুরু থেকে এপর্যন্ত প্রায় ২৮টি ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে গ্রাহকেরা।
জানা যায়, ময়মনসিংহ-পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ (গফরগাঁও জোন) অফিসের নিয়ন্ত্রণে উপজেলার এক হাজার ৩৭৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের আওতায় ৫৫ হাজার ১৫০ জন গ্রাহক রয়েছেন। গত ৯ মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। মে-জুন মাসে নিগুয়ারী ইউনিয়নের পাতলাশি গ্রাম থেকে ১টি, কোরচাই গ্রাম থেকে ১টি, একই এলাকার ইটভাটা থেকে ৩টি এবং সেচকাজে ব্যবহার করা ২টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।
জুলাই মাসে টাংগাব ইউনিয়নের স্বল্প ছাপিলা গ্রাম থেকে ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এরপর আগস্ট মাসে টাংগাব ইউনিয়নের সালেহ আকরাম খান তসলিমের বাড়ি ও মেসার্স মা-বাবা ফিসারি থেকে চুরি হয়। সেপ্টেম্বর মাসে গফরগাঁওয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন দত্তেরবাজার ইউনিয়নের বিরই গ্রাম থেকে ও পিডিপির আওতায়ধীন টাংগাব ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রাম থেকে ১টি ট্রান্সফর্মার চুরি হয়েছে।
এসব ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোনাল অফিস বাদী হয়ে থানায় ২৮টি অভিযোগ দায়ের করেছে। ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে গফরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলি করেছে। আয়োজন করেছে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন সভা। তবু ট্রান্সফরমার চুরি রোধ করা যাচ্ছে না।
নিগুয়ারী ইউনিয়নের গ্রাহক আবুল কালাম জানান, যেভাবে চুরি বেড়েছে তাতে আমরা আতঙ্কে আছি। ট্রান্সফর্মার চুরি হলে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনে ব্যয় ও সময় লাগে।
গফরগাঁও জোনাল অফিসের এজিএম মো. রাসেল মিয়া বলেন, বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। ট্রান্সফরমারের ভেতরে মূল্যবান তামার কয়েলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকে। মূলত দামি কয়েলের কারণেই ট্রান্সফরমার চুরি হয়।
গফরগাঁও জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহিনা আক্তার বলেন, প্রতিটি চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের দুর্ভোগ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বলেছে, বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এই চক্রের সদস্যদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।