‘স্মৃতিকে পুলিশ যেভাবে গ্রেপ্তার করেছে তা অসভ্যতার নজীরবিহীন ঘটনা’

রাজবাড়ী ব্লাড ডোনার্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জেলা মহিলা দলের সদস্য সোনিয়া আক্তার স্মৃতিকে মঙ্গলবার রাতে রাজবাড়ী শহরের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‌‘দিনে-রাতে কোনো মানুষেরই নিরাপত্তা নেই। সোনিয়া আক্তার স্মৃতি একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে সত্য উচ্চারণের কারণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই সরকার বিচলিত হয়ে ওঠে। কারণ সব অন্যায় ও অপকর্মের হোতাই হচ্ছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। সোনিয়া আক্তার স্মৃতিকে পুলিশ যেভাবে গ্রেপ্তার করেছে তা অমানবিক, অসভ্যতার এক নজীরবিহীন ঘটনা। গভীর রাতে তার বাসায় যেভাবে পুলিশ হানা দিয়েছে তা একাত্তরের হানাদার বাহিনীর বর্বরতার সমতুল্য। সোনিয়া আক্তার স্মৃতি বারবার কাকুতি-মিনতি করে বলেছেন-‘আমার দুটি ছোট বাচ্চা আছে, আপনারা এত রাতে আসছেন কেন, গ্রেপ্তার করলে দিনে আসুন’। কিন্তু তারপরও পুলিশ কোনো কথা শোনেনি, সন্ত্রাসী কায়দায় তখনি তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। সোনিয়ার দুটি ছোট বাচ্চার আহাজারিতেও পুলিশের মন গলেনি। বর্তমান সরকারের আমলে নারীর ওপর এহেন আচরণ আরেকটি কুৎসিত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে’।

তিনি আরো বলেন, ‘দেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অবিচার ও অন্যায় চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আইন রক্ষকরাই এখন জনদুশমনে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী সরকারের নিষ্ঠুর নিপীড়নের অভিঘাতে দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজমান। নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে কেউ নিরাপদ নয়। জনপদের পর জনপদ এখন রক্তাক্ত। এদেশকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করার জন্য আওয়ামী সরকার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার জন্য পথে-ঘাটে রক্ত ঝরাচ্ছে। অধিকার হারা মানুষের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তবে সব নৃশংস অমানবিক কাজের জবাব একদিন জনগণের কাছে দিতেই হবে’।

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে সোনিয়া আক্তার স্মৃতির বিরুদ্ধে দায়ের মামলা প্রত্যাহারসহ তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানান। 

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. সামসুল আরেফিন চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় স্মৃতির বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সেই মামলার প্রেক্ষিতে রাজবাড়ী সদর থানায় দণ্ডবিধি ১৫৩ ও ৫০৫ ধারায় মামলা গ্রহণ করে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া আক্তার স্মৃতি গত ৩১ আগস্ট তার ফেসবুকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সরকার, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করিবার লক্ষ্যে উল্লেখিত মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম/ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার করেন।

এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে তার ফেসবুকে সরকারের নানা উন্নয়ন নিয়ে ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নানা প্রকার বক্তব্য পরিবেশন করেন। ফলে সমাজে অনেক মানুষ ভুল তথ্য জানে।

গ্রেপ্তারের আগে ফেসবুক লাইভে আসেন সোনিয়া আক্তার স্মৃতি। সেখানে পুলিশকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাকে মধ্যরাতে কেন ধরতে আসছেন? আমি তো পালিয়ে যাচ্ছি না। আমার ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা আছে। আমি তাদের রেখে আসছি। আমাকে ১০-১৫ মিনিট সময় দেন। আমি স্বেচ্ছায় বের হচ্ছি। তিনি ভালো আছেন, সুস্থ আছেন বলে ফেসবুকে সবার উদ্দেশ্যে জানান।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি শাহাদৎ হোসেন বলেন, একটি মামলার প্রেক্ষিতে রাতে সোনিয়া আক্তার স্মৃতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।