পশ্চিমবঙ্গে দুর্গা পূজার প্রতিমা বিসর্জনের সময় হড়কা বানে ৮ মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছেন বহু জন।
বুধবার বিজয়া দশমীর দিন রাতে জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের পাশে মাল নদীতে এ ঘটনা ঘটে বলে আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে এক শিশু ও চারজন নারী রয়েছে বলে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। এ ঘটনায় আহত ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মৃতরা হলেন- তপন অধিকারী (৭২), ঊর্মি সাহা (১৩), রুমুর সাহা (৪২), আনস পণ্ডিত (৮), বিভা দেবী (২৮), শুভাশিস রাহা (৬৩), শোভনদ্বীপ অধিকারী (২০) এবং সুস্মিতা পোদ্দার (২২)।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মৌমিতা গোদারা বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন দিতে কয়েকশ লোক মাল নদীর তীরে জড়ো হয়েছিল।
‘হঠাৎ হড়কা বান নেমে আসে আর লোকজন ভেসে যায়। এ পর্যন্ত আটটি মৃতদেহ ও প্রায় ৫০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।’
পশ্চিমবঙ্গের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী ও স্থানীয় এমএলএ বুলু চিক বারাইক এনডিটিভিকে বলেন, ঘটনাটি যখন ঘটে তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। বেশ কিছু লোক ভেসে যায় আর নদীর স্রোত অত্যন্ত তীব্র ছিল। এ ঘটনার সময় সেখানে শত শত লোক উপস্থিত ছিল। অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
আনন্দবাজার জানায়, রাতভর বৃষ্টির জেরে উদ্ধারকাজ থমকে ছিল। বৃহস্পতিবার সকালেও বৃষ্টির জন্য কিছু ক্ষণ বন্ধ ছিল উদ্ধারকাজ। বেলা বাড়লে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আবার শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ।
এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘জলপাইগুড়িতে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে আমি ক্ষুব্ধ। এই দুর্ঘটনায় যারা মারা গিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি।’
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মাল নদীর গতিপথ বদলানো হয়েছে। প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে নদীর মাঝামাঝি এলাকায় যেতে হয়েছিল দর্শনার্থীদের। আচমকা জলস্তর বেড়ে যাওয়ার ফলেই এমন বিপর্যয়। বিসর্জনের সময় ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ।