একটি দিনকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর পূর্বশর্ত হলো দিনের শুরু থেকেই পরিকল্পিত কাজ করা। আর সেজন্য দিনের প্রথম কাজটি হলো কোন কাজে কতটুকু সময় ব্যয় করা হবে তার পরিকল্পনা করা। সময় ব্যবস্থাপনার কৌশল জানাচ্ছেন বিপুল জামান
শিক্ষাজীবনে সফল হতে সময়ের সদ্ব্যবহারের বিকল্প নেই। সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। একে সঞ্চয় করাও যায় না। প্রতিটি মুহূর্ত তাই সচেতনভাবে ব্যয় করা উচিত। কিন্তু আমরা দিনের শুরুতেই অনেক সময় অবহেলায় নষ্ট করে ফেলি। এই অপচয় রোধ করতে সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর একটি মাত্র অভ্যাসের চর্চা আমাদের সারা দিনকে ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে। সকালের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হলো, সময় ব্যবস্থাপনা। সারা দিনে তোমার কী কী কাজ আছে, এর মধ্যে কোনগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কোন কাজের জন্য কতটুকু সময় বরাদ্দ করবে তা নির্দিষ্ট করে ফেলা-ই হলো সময় ব্যবস্থাপনা।
বলা হয়ে থাকে, একটি চমৎকার শুরু সফলতার অর্ধেক। সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তুমি তোমার দিনটি চমৎকারভাবে শুরু করতে পারো। ঘুম থেকে উঠে মস্তিষ্ক থাকে ধীরস্থির শান্ত। এ সময় নির্ভুল ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। সময় ব্যবস্থাপনার জন্য প্রথমেই দেখে নাও কোন কাজগুলো আগে থেকে আজকের দিনে নির্ধারিত আছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে কি না তা ডায়েরি বা রিমাইন্ডার থেকে দেখে নাও। টু-ডু লিস্টের নির্ধারিত সময়ে সেগুলো স্থাপন করো।
কোন সাবজেক্ট কতক্ষণ পড়বে, কোন চ্যাপ্টার প্রথমে পড়বে, কোনটা শেষে ধরবেএগুলো চিন্তা করতে করতেই মূল্যবান সময়ের অনেকটা চলে যায়। শেষে দেখা যায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই কোন বিষয় কখন পড়বে তা ঠিক করে নাও। কোন বিষয় সকালে পড়বে, কোনটি সন্ধ্যা বা রাতে পড়বে তা ঠিক করে রাখো।
বাইরের কাজগুলো যেন একবারে শেষ করতে পারো সেভাবে সাজাও। তাহলে বারবার বাইরে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচবে। তাতে সময় বাঁচবে, পরিশ্রম কম হবে। পরিবারের কোনো কাজের দায়িত্ব যদি তোমার ওপর থাকে সেটিও সময় ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত রাখো। ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কর্ম তালিকার অবদান অপরিসীম।
সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে যে, এই পুরো কাজটি করতে ৫-৭ মিনিটের বেশি নেওয়া যাবে না। প্রথমে দু-এক মিনিট বেশি লাগলেও ধীরে ধীরে সময় ব্যবস্থাপনার গোটা কাজটি ৫-৭ মিনিটের মধ্যে করার চেষ্টা করবে। ঘুম থেকে উঠেই এই ৫-৭ মিনিটের পরিকল্পনা তোমার সারা দিনের কাজকে অনেক সহজ করে দেবে।