জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ ও ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পক্ষে দেয়ার জন্য ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী মোছা. লাকী বেগম জোৎস্না।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মামলা আমলে নেওয়া বিজ্ঞ আদালত মোলান্দহ, জামালপুরে সিআর মামলা দায়ের করি। সিআর মামলা নং: ৩৫৫(১) ২০২১ইং। আমার পিতার মৃত্যুতে আমি বাদী হয়ে উক্ত মামলা দায়ের করে পরিচালনা করি। ওই মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় আমার বক্তব্য আমার পিতাকে শত্রুতাবশত আসামিরা হত্যা করে। আমি মামলা দায়ের করার পূর্বে আমার সৎ বোন মেলান্দহ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। যাহার ইউডি কেস নং ০৬/২১ তারিখ ০২/১০/২০২১। এমন পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মামলাটি পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করবে। আমি আমার চাচাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য গেলে ডা.হারুন অর রশীদ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পক্ষে দেয়ার জন্য আমার নিকট এক লাখ টাকা দাবি করেন।
তিনি বলেন, তাহার দাবিকৃত টাকা প্রদান করিলে আমার দাখিলকৃত মামলা মোতাবেক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দিবেন। ডা.হারুন অর রশিদের চাহিদা মত আমার চাচাতো ভাইয়ের উপস্থিতিতে ৮৩ হাজার টাকা প্রদান করি। ডাক্তারের চাহিদা মোতাবেক বাকি ১৭ হাজার টাকা প্রদান করিতে পারি নাই। আমার দায়েরকৃত সিআর মামলায় আসামিদের কাছ থেকে অধিক টাকা গ্রহণ করে তাদের চাহিদা মোতাবেক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেন। আমি গরিব বিধায় ডা.হারুন অর রশীদ ধোকা দিয়ে আমার কাছ থেকে ৮৩ হাজার টাকা নেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে একাধিকবার ডাক্তারের কাছে যাতায়াতে আমার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে আমার এক লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। ডা.হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ন্যায় বিচারের দাবি করেন ভুক্তভোগী মোছা. লাকী বেগম।
অভিযোগকারী ওই নারী জেলার মেলান্দহ উপজেলার সাধুপুর এলাকার মৃত ছমির মোল্লার মেয়ে।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ। আমি এর সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই।