লাঠি ছাড়া সমাবেশ বিএনপির

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিষেধাজ্ঞা মান্য করে লাঠি ছাড়াই রাজধানীতে সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। শুক্রবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির (জোন-৪) লালবাগ, চকবাজার ও কামরাঙ্গীরচর থানার উদ্যোগে লালবাগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে লাঠি ছাড়া খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হন। তবে তাদের কারো হাতে জাতীয় পতাকা দেখা যায়নি। 

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে আমরা লাঠি নিয়ে আসিনি। কারণ প্রয়োজন হয়নি। তবে হামলা হলে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা আবারও লাঠি বহন করব।’

লাঠি না নেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ডিএমপির নির্দেশনা মেনে লাঠি নিয়ে যাইনি। প্রথম দিকে রাজধানীর সমাবেশগুলোতে আমরা লাঠি নিয়ে যাইনি। বনানীতে আমাদের শান্তিপূর্ণ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে হামলা করে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের গুরুতর আহত করা হয়। এরপর নিজেদের নিরাপত্তায় নেতাকর্মীরা লাঠি বহন করতে শুরু করে। সর্বশেষ হাজারীবাগেও লাঠি নিয়ে সমাবেশে অংশ নিয়েছেন নেতাকর্মীরা।’

তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলেছে। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে ভারত সীমান্তে আমাদের নাগরিক মারছে। অন্যদিকে মিয়ানমার আমাদের দেশে মর্টারশেল মারে। আমরা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় পতাকা নিয়ে মাঠে নেমেছি।’

বিএনপি তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বনানীতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে হামলা করে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। হামলায় মাথায় চোট লাগায় চিকিৎসার জন্য তাবিথ আউয়ালকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর প্রতিবাদে ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহাখালীতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশের কর্মসূচিতে লাঠি হাতে অংশ নেয় দলটির কয়েকজন কর্মী।

সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হাজারীবাগের সমাবেশে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ উভয়পক্ষের কাছে দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে। সেখানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হাতে বেশি অস্ত্র দেখা গেছে। সমাবেশের আগে তাদের মধ্যে একদফা সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী আহত হয়।

এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘মিছিল-মিটিং বা সমাবেশে লাঠি বা দেশীয় অস্ত্র আনা যাবে না। লাঠিসোটা পুলিশসহ সাধারণ মানুষের জন্য হুমকি স্বরূপ, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এগুলো আনার কোনো প্রয়োজন নেই।’

বিএনপি নেতারা পুলিশের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, যখন ছাত্রলীগ, যুবলীগ লাঠিসোটা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে তখন তো আপনারা সেটা দেখেন না। তাদের নিষেধ করেন না।

সংবাদ সম্মেলন করে সমাবেশে লাঠি বহন করার যে নিষেধাজ্ঞা পুলিশ দিয়েছে তার কারণ সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাজারীবাগের সমাবেশের দিন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মার খাওয়ায় ভয় পেয়ে যায় আওয়ামী লীগ। তাই পুলিশ দিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করায়। আওয়ামী লীগ শক্তের ভক্ত, নরমের যম। আচ্ছা মতোন দিতে পারলে ভয়ে কুকড়ে যাবে ওরা। কারণ ওদের পায়ের তলে মাটি নেই।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশে জনগণের স্রোত দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এ কারণে কোথাও পুলিশ দিয়ে, আবার কোথায় নেতাকর্মীদের দিয়ে সমাবেশে হামলা করিয়েছে। যখন বিএনপি এসব হামলার জবাব দিতে ঘুরে দাঁড়ায় তখন ভয় পেয়ে যায় সরকার। তখন বাধ্য হয়ে পুলিশকে দিয়ে লাঠি মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় সরকার। আমরা এখন লাঠি নেব না। তবে প্রয়োজন হলে আবারও লাঠি নিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগকে শায়েস্তা করার ওষুধ পাওয়া গেছে।’