সমকামী চরিত্রে মাধুরী, তবে জমল না 'মাজা মা'

মাধুরী দীক্ষিত মানেই মন ভোলানো হাসি। তাতেই অর্ধেক যুদ্ধ জয় করে ফেলা যায়। সেই কাজটি 'মাজা মা' ছবি তৈরির আগে পরিচালক আনন্দ তিওয়ারি করে ফেলেছিলেন। কিন্তু বাকি যুদ্ধ তিনি জয় করতে পারলেন না। পরিকল্পনা তার মন্দ ছিল না। কিন্তু কার্যকর করতে পারলেন না।

সম্ভবত আমাজন প্রাইম ভিডিও-র প্রথম ইন্ডিয়ান অরিজিনাল মুভি 'মাজা মা'। ছবিতে পল্লবীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মাধুরী। পারফেক্ট হোমমেকার বলতে যা বোঝায় পল্লবী ঠিক তাই। স্বামী (গজরাজ রাও) ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার তার। বিদেশে গিয়ে প্রেমে পড়ে পল্লবীর ছেলে তেজস (ঋত্বিক ভৌমিক)। প্রেমিকার বাবা-মায়ের মন জয় করে তাকে বিয়ে করতে চায় সে। তাই তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। মা হিসেবে পল্লবীও সেই চেষ্টাই করে।

সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। আচমকা পল্লবীর জীবনের কঠিনতম সত্যি সকলের সামনে চলে আসে। পারফেক্ট গুজরাটি পরিবারের বধূ আসলে সমকামী। এই সত্যি যেন বাজের মতো গোটা পরিবারের ওপর পড়ে। শুরু হয়ে যায় সম্পর্কের টানাপড়েন। গল্পটি পরিচালক আনন্দ তিওয়ারি ভালোই বেছেছিলেন। কিন্তু সেভাবে ক্যামেরার সামনে ফুটিয়ে তুলতে পারলেন না।

একগাদা চরিত্রের চক্রব্যূহে গল্প যেন চরকির মতো পাক খাচ্ছিল। পল্লবীর চরিত্রে মাধুরী দীক্ষিতকে আনন্দ ঠিকই বেছেছিলেন তবে তিনি মাধুরী-মহিমার বাইরে বের হতে পারেননি। মনে হয়েছে, অতি সাবধানতার সঙ্গে সমকামিতার বিষয়টি দেখানো হয়েছে। হয়তো পরিচালক মাধুরীভক্তদের আবেগের কথা একটু বেশিই চিন্তা করেছেন। তাই বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করেছেন। এতেই চিত্রনাট্যের গতি কমে গিয়েছে। গজরাজ রাও, রজিত কাপুর, শিবা চাড্ডা, বরখা সিং থেকে সৃষ্টি শ্রীবাস্তব- ছোটবড় প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই ভালো। তবে তারা পার্শ্ব চরিত্রের ভূমিকা পালন করেছেন মাত্র। 

সবমিলিয়ে 'মাজা মা' ছবির ক্ষেত্রে প্রচলিত একটি হিন্দি বাক্য ব্যবহার করা যায়, 'পানি কম চা'। উদ্দেশ্য ভালোই ছিল, ফল খুব একটা তৃপ্তিকর হলো না। সূত্র : বলিউড হাঙ্গামা