ম্যাচপরবর্তী প্রেজেন্টেশন আর সংবাদ সম্মেলন দুই জায়গাতেই যেতে হয় অধিনায়ককে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানও এ দুই জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। দু’বার মিলিয়ে ‘উন্নতির জায়গা আছে’ কথাটা সোহান কতবার বলেছেন তা হয়ত নিজেও ভুলে গেছেন। প্রতি সিরিজ বা টুর্নামেন্টের পরই অবধারিত ভাবে বাংলাদেশ বেশ কিছু উন্নতির জায়গা খুঁজে পায়। কিন্তু পরের সিরিজ বা টুর্নামেন্টে আবার পুরনো অবস্থা। আরব আমিরাতের বিপক্ষে বেশ উন্নতি নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে হেরে সেই একই বুলি। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোর জন্য এখন সোহানদের উন্নতির জায়গা খুঁজে পাওয়াই প্রথম ম্যাচের প্রাপ্তি।
পাকিস্তানের সঙ্গে দুই ঘটনায় ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। প্রথমে মোস্তাফিজুর রহমানের ছন্নছাড়া বোলিং। ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়েছেন এই পেসার। এরপর নিজেদের ইনিংসে ১৩ থেকে ১৫তম এই তিন ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যান সোহানরা। অথচ ১৩তম ওভারে পাকিস্তানের ২ উইকেটে ৯৪ রানের জবাবে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ৮৭। মোহাম্মদ নাওয়াজের ওই ওভারেই পরপর দুই বলে লিটন দাস ও মোসাদ্দেক আউট হন। পরের দুই ওভারে আফিফ হোসেন ও অধিনায়ক সোহান ফিরলে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের।
কালকের উইকেটটা কঠিন ছিল না। বাজে বোলিংয়ে সহজেই রান নেওয়া গেছে। আবার উইকেটে সেট হলেও ব্যাটাররা রান করতে পেরেছেন সহজে। ইয়াসির আলি রাব্বি ও লিটন দাসের ইনিংস দুটো তার উদাহরণ। এছাড়া ইনফর্ম আফিফও রান পেয়েছেন। এই উইকেটে টিকে গেলে ভালো ব্যাট করার সেরা উদাহরণ কালকের ম্যাচসেরা মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৫০ বলে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। বাংলাদেশের রাব্বি শুরুর দিকে বল ব্যাটে লাগাতে পারছিলেন না। শেষদিকে সেই অস্বস্তিটা কাটিয়ে ঝড়ো ইনিংস খেলতে পেরেছেন। হারিস রউফের শেষ ওভারে একাই নিয়েছেন ২০ রান। শেষ পর্যন্ত ২০০ স্ট্রাইক রেটে ২১ বলে ৪২ করে অপরাজিত ছিলেন রাব্বি। ১৩ থেকে ১৫তম ওভারে আউট হওয়া লিটন-মোসাদ্দেক-আফিফ-সোহানের কেউ একজন টিকে গেলে রাব্বির সঙ্গে জুটি গড়তে পারতেন। তখন ম্যাচের ফলটাও ভিন্ন হতো। অধিনায়ক সোহানও আক্ষেপ করে জানালেন, ‘শুরুতে দুইটা উইকেট পড়ার পর লিটন-আফিফের একটা জুটি হয়েছিল। তো উইকেটটা ভালো ছিল। আমরা ৩-৪ ওভারের মধ্যে চারটা উইকেট হারাইছি। আমার কাছে মনে হয় এখানে ম্যাচের পার্থক্য হয়ে গেছে। এখানটায় আমরা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম তাহলে হয়তো ভিন্ন গল্প হতো।’
ভালো উইকেটে পাকিস্তানকে নাগালের মধ্যে আটকে দিয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। উইকেট হারানোর ওই অংশটা থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন সোহান। যেন এমন উইকেট হারানোর ঝড় আরেকটি হারের কারণ না হয়, ‘আজকের ম্যাচে উইকেট ভালো ছিল। মাঝখানে আমরা কিছু উইকেট হারিয়েছি। আমার মনে হয় এই জায়গাটায় উন্নতি করার জায়গা আছে। কিছু জায়গা হয়তো আছে যেগুলোর উন্নতি এখান থেকে করলে সেটার ফল হয়তো আমরা বিশ্বকাপে পাব।’
উন্নতির আরও জায়গা পেয়েছেন সোহান। সেটা বোলিংয়ে। পাকিস্তানকে হাত খোলা হতে না দেওয়ায় দারুণ ভূমিকা রেখেছেন স্পিনাররা। মিরাজ একটি ওভারে ১ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ১ রান দিয়েছেন। নাসুম দুটি ওভারে যথাক্রমে ৩ ও ৫ রান দিয়েছেন। কিন্তু মোসাদ্দেক দুটি ভালো ওভার করেও শেষ বলে চার হজম করেছেন। সোহান এই জায়গায় জিততে চান। ওভারগুলোতে বাউন্ডারি না হলে পাকিস্তানের রান আরও কমত, ‘মাঝের ওভারে স্পিনাররা কিছু ভালো ওভার করেছে। যে জিনিসটা আমাদের করতে হবে কিছু কিছু জায়গায় আমরা হয়তো কিছু ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হজম করেছি। তো কিছু এরিয়া এমন রয়েছে যেখানে আমাদের উন্নতির জায়গা আছে।’
মোস্তাফিজ ও হাসান মাহমুদের ৪০-এর ওপর রান দেওয়ার ব্যর্থতা সত্ত্বেও সোহান পেসারদের কৃতিত্ব দিলেন। আবার ‘কিছু জায়গায় উন্নতির করার আছে’ বলে একটু ফাঁকও রাখলেন। সোহানের রাখা ফাঁক সামনের ম্যাচে ভরে উঠলে বোলিং আরও ভালো হবে বাংলাদেশের। তখন ব্যাটারদের জন্যও কাজটা সহজ হবে।