মুমিনুলের আস্থা ফিরে পাওয়ার সুযোগ দেখছেন বাশার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে আগামী নভেম্বরে ভারত আসছে বাংলাদেশ সফরে। এসময় তারা দুটি টেস্ট ও তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে। তার আগে বাংলাদেশের ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররা যাচ্ছেন ভারত সফরে। বিসিবি একাদশ নাম নিয়ে আগামীকাল ৯ অক্টোবর উড়াল দিচ্ছেন তামিলনাড়ুর উদ্দেশ্যে। সেখানে রঞ্জি ট্রফি খেলা ক্রিকেটারদের সঙ্গে লড়াই করবেন তারা। পরিচিত কন্ডিশনে অফ-ফর্মে থাকা খেলোয়াড়রা নিজেদের ঘাটতিগুলো নিয়ে কাজ করার দারুণ সুযোগ হিসেবে দেখছে বিসিবি।

চেন্নাইয়ে দুই দিন অনুশীলন শেষে প্রথম চার দিনের ম্যাচ ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর। দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচটি হবে ১৯ থেকে ২২ অক্টোবর। এক দিনের ম্যাচ তিনটি হবে ২৭, ২৯ ও ৩১ তারিখে। সবগুলো ম্যাচ চেন্নাইর টেস্ট ভেন্যু চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে।

তবে এই সফরে মূল রাজ্য দলের সঙ্গে খেলা হবে কি না সেটা যাওয়ার আগেরদিনও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। শনিবার সকালে মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের সঙ্গে খেলব, সেই দলের তালিকাটা এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে যতটুকু জানি ওদের মূল রাজ্য দলের সঙ্গে খেলা। ওদের একটা ওয়ানডে টুর্নামেন্ট চলছে, তো ওদের যারা চারদিনের ম্যাচ খেলে রঞ্জি ট্রফিতে ওদের সঙ্গে খেলার কথা আমাদের।’

মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে গিয়ে ভরাডুবি হয়েছিল টাইগারদের। তখন থেকেই আলোচনায় উঠে এসেছিল মুমিনুল হকের অধিনায়কত্ব নিয়ে। পরে ঘরের মাটিতে শ্রীলংকারে সঙ্গে ভরাডুবির পর নিজে থেকেই ছেড়ে দেন সাদা পোশাকের নেতৃত্ব। তারপর আলোচনায় আসে তার ব্যাটিং ফর্মও। ওয়েস্টইন্ডিজ সিরিজে গিয়ে এক ম্যাচে খারাপ করার পরই জায়গা হারান একাদশ থেকে। সেই মুমিনুল এবার ফিরেছেন বিসিবি একাদশের দলে।

টেস্ট দলের সাবেক অধিনায়কের আস্থা ফিরে পাওয়ার দারুণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন নির্বাচক, ‘মুমিনুল অনেক দিন ধরে টেস্ট খেলেছে, আমরা সবাই তার সামর্থ্য সম্পর্কে জানি। ওর কাছে যদি কিছু চাওয়া থাকে আস্থা ফিরে পাওয়া, এটা অবশ্যই ওর জন্য দারুণ সুযোগ।’

শুধু মুমিনুলই না। অন্যান্য ক্রিকেটারদেরও সুযোগ হিসেবে দেখছেন টাইগারদের সাবেক অধিনায়ক বাশার, ‘এটা শুধু মুমিনুল না। আপনি যদি আমাদের দলটা দেখে থাকেন এটা আমাদের টেস্ট দলকে রিফ্লেক্ট করছে। তামিলনাড়ু রাজ্য দলটা বেশ শক্তিশালী একটা দল। ভারত সিরিজের আগে এটা আমাদের জন্য ভালো একটা অপরচুনিটি। মুমিনুল যেন টাচে ফিরে আসে! একইসঙ্গে আরও কিছু ক্রিকেটার দেখেন তারা কিন্তু বেশি টেস্ট খেলেনি তাদের জন্য সফর আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাইফ, সাদমান ভালো প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেললে নিজেদের খেলাটা বোঝা যায়। আমি মনে করি সফরটা আমাদের জন্য খুব কাজে দেবে লাস্ট সিরিজের পর যেহেতু একটা গ্যাপ পড়েছে।’

এই সফর নিজেদের দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন হাবিবুল বাশার সুমন, ‘যেহেতু আন্তর্জাতিক সিরিজের সময় কাজ করার সময় খুব একটা থাকে না। এই ধরনের খেলাগুলো নিজের দুর্বলতা, নিজের সম্পর্কে জানতে খুব সাহায্য করে। আন্তর্জাতিক টেস্টে যেমন কেউ নিজের খেলা পরিবর্তন করতে চায় না, ন্যাচারাল খেলাটাই খেলে। কিন্তু এ ধরনের সিরিজে যার যে জায়গায় লেকিংস আছে সেটাতে কাজ করতে পারে।’

ঘরের মাঠের চেয়ে বাইরের মাঠের খেলাগুলো চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় কন্ডিশনের খুব একটা পার্থক্য হবে না। ওয়েদার, উইকেট অনেকটা একই। অন্য কোনো দেশে হলে বলতাম যে একটু ডিফিকাল্ট। আর আমাদের এখান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট চলছে সেখানে আসলে আমাদের সুযোগ নেই। আর হোমের চেয়ে বাইরের ম্যাচগুলো একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়।’