প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশের জনগণকে চেরাগ জ্বালাতে হবে না। তার আগেই আপনাকে বিদায় নিতে হবে। আপনি বিদায় নিলে বাংলাদেশ আলোকিত হবে।’
শনিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর পল্লবীতে কালশি বালুর মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং, গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে দলীয় নেতা নুরে আলম, আব্দুর রহিম, শাওন ও শাওন প্রধানের হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরীর ১৬টি স্পটে ধারাবাহিক সমাবেশের অংশ হিসেবে ওই সমাবেশ হয়। রূপনগর, পল্লবী থানার উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে অংশ নিতে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে শত শত নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন।
জাতিসংঘ সম্মেলন ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে গত ৬ সেপ্টেম্বর গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্বের জ্বালানি সংকটের পরিস্থিতিতে আদিযুগে ফেরত যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শেষে ভেন্নার তেল আর রেড়ির তেল দিয়ে কুপিবাতি জ্বালাতে হবে। এখন থেকে সবাই প্রস্তুত হন, চেরাগ জ্বালিয়ে চলতে হবে। কাঠখড়ি পুড়িয়ে রান্না করতে হবে।’
খসরু বলেন, ‘বিগত দুইটি নির্বাচনের মতো নির্বাচন এবার করতে পারবেন না। ইলেক্ট্রোনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) দিয়ে চুরি করে পুনরায় ক্ষমতায় থাকতে চান। প্রধানমন্ত্রী দুঃস্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু এবার তা হবে না। দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। দুই বেলা খাবার তারা খেতে পারছেন না। বিদ্যুৎ খাতে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছেন। এখন দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। আর আপনারা আট হাজার কোটি টাকা দিয়ে ইভিএম কিনে ভোট চুরি করবেন তা হবে না। ইভিএম হল ভোট চুরির মেশিন।’
তিনি বলেন, ‘জনগণকে বাইরে রেখে সরকার বিনা ভোটে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে চান। বিনা ভোটের সরকার চুরি করবে আর তাদের উচ্ছিষ্ট ভোগ করার জন্য কিছু বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, অতি উৎসাহী প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ, ব্যবসায়ী যুক্ত হয়েছেন। এদেরকে জনগণ চিহ্নিত করছে। নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন জনগণ। তবে তাদের মধ্যে দুই-একজন যাদের মাথায় ঘিলু রয়েছে তারা ইতোমধ্যে দেওয়ালের লিখন বুঝতে পারছেন। তারা সরে যেতে শুরু করেছে। কারণ দেওয়ালের লিখন হচ্ছে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশে যে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার কারণ সরকার ভয় পেয়ে গেছে। তাদের ভয় কাটাতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে। শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি করছে। এগুলো করছে আত্মরক্ষার জন্য। আমরা যখন লাঠিসোঁটা নিয়ে নামলাম তখন তারা থেমে গেছে। আমরা লাঠি নিয়েছিলাম আত্মরক্ষার জন্য। আসলে সরকার অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে তারা জনগণকে ভয় পাচ্ছে। আপনাদের জনসমর্থন থাকলে আপনারা পাল্টা সমাবেশ করেন। তা তো করছেন না। কারণ জনগণ আপনাদের সঙ্গে নেই। এরপর আমাদের ওপর হামলা করতে আসলে জনস্রোতে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও অতি উৎসাহী কর্মকর্তারা ভেসে যাবেন।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছেন। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে সংসদীয় গণতন্ত্র দিয়েছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমান ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটিয়ে মানুষের সকল অধিকার ফিরিয়ে দেবে। আমরা রূপান্তরিত বাংলাদেশ উপহার দেবো। সরকার গত ১৪ বছর ধরে গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। সেগুলো ঠিক করতে হবে।’
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কামরুজ্জামান রতন, নাজিম উদ্দিন আলম, সাইফুল আলম নীরব, যুবদল নেতা মামুন হাসান, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, কৃষক দলনেতা কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, মহানগর উত্তর বিএনপি নেতা মুনসী বজলুল বাসিত আনজু, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, হাজী ইউসুফ, এ বি এম এ রাজ্জাক প্রমুখ।