বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘বৈশ্বিক সংকটের দায়ভার দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। জ্বালানি ক্ষেত্রে দেশে গত দুই দশকে যে দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে, তা এখনো অব্যাহত আছে, এ ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলেই সংকট এড়ানো যেতো’।
তিনি বলেন, ‘জনগণ ধৈর্য ধারণ করেছে বলেই ষড়যন্ত্রকারীরা এখন পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিজনিত সংকট নিয়ে কিছু করতে পারছে না। মুষ্টিমেয় দুর্নীতিবাজ, অসৎ ব্যক্তির লোভের ফলে অর্থনীতির যে দশা হতে চলেছে তাতে জনগণের ওই ধৈর্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
শনিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে করণীয় ও দলের কর্মীদের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেট জেলা কমিটির কর্মীসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড সিকন্দর আলী।
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সর্ষের ভেতর ভূত দেখছে। বিগত দিন তারা কোন নির্বাচনই নিরপেক্ষ করতে পারেনি’।
তিনি চা-শ্রমিকদের মুজরিসহ বিভিন্ন সমস্যা এবং আদিবাসীদের ভ‚মি রক্ষার বিষয়টি সংসদে তুলে ধরবেন উল্লেখ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মী হতে হলে মানুষের পাশে থাকতে হবে। ত্যাগের বদলে ভোগ আর আদর্শের বদলে সুবিধা পাওয়া বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি করোনার সময় ও সিলেটে ভায়বহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করায় ওয়ার্কার্স পার্টির সিলেটের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। দলীয় কাজের পাশাপাশি মানবসেবায় সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ওয়ার্কার্স পার্টি সিলেট জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড দীনবন্ধু পালের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ গোলাম হোসেন আজাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সদস্য অজিত দেবনাথ, আব্দুল্লাহ খোকন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক কাজী আনোয়ার হোসেন, যুব মৈত্রী জেলা সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন রুমেল, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী সিলেট জেলার সভাপতি মাসুদ রানা চৌধুরী, নারী মুক্তি সংসদ সিলেট জেলার আহ্বায়ক রিতা আক্তার প্রমুখ।