আশুলিয়ায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে চলন্ত প্রাইভেটকারে ঢিল ছুড়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে তিনজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশি অস্ত্র জব্দ করা হয়। ঘটনায় আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পরে রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার ভোরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের কবিরপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার মনোহরা গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে মো. ইমরুল হাসান ইমন (২২), সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানার পাঁচ ঠাকুরি গ্রামের মো. সফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রাসেল ইসলাম (২২) ও লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানার গুটিমারা গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে মো. প্রিন্স (২৭)। বর্তমানে তারা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে ডাকাতি করে আসছিল।
থানা-পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা রবিবার ভোরে একটি প্রাইভেটকারে ঢিল ছুড়ে গাড়িটির গতি রোধ করে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থলে থেকে তিনজনকে আটক করে। এ সময় ৩ থেকে ৪ জন পালিয়ে যায়। এরা মূলত আশুলিয়ার কবিরপুরে বেতারের জঙ্গল ঘিরে গড়ে ওঠা একটি অপরাধী চক্র। বিভিন্ন সময় চলন্ত গাড়িতে ইট-পাথর ঢিল ছুড়ে গতিরোধ করে ছিনতাই ও ডাকাতি ছাড়াও পথচারীদের হামলা করে সবকিছু লুটে নেয়।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দায়ের করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় ছিনতাই-ডাকাতি করে আসছিল। রিমান্ডের অনুমতি পেলে জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, আশুলিয়ার কবিরপুরে ডাকাতির প্রতিবাদে স্থানীয়রা চলতি বছরে দুই দফা এই মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিল। অপরাধীরা ডাকাতি ও ছিনতাই করে মহাসড়কের পাশে থাকা বাংলাদেশ বেতারের অধীনস্থ জঙ্গলে পালিয়ে যেত। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে জঙ্গল পরিষ্কারসহ পুলিশ টহল বাড়ানো হয়।