রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণ নিতে এসে মো. আল-আমিন (১৩) নামের এক শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল। সেই নিখোঁজের ঘটনার পাঁচ দিন পর রাজবাড়ী থেকেই তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজ মো. আল-আমিন (১৩) গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দুদুখানপাড়া এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় দুদুখানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
আল-আমিন গত মঙ্গলবার বিকেলে সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণে অংশ নিতে এসে নিখোঁজ হয়েছিল। পরিবারে চার সন্তানের মধ্যে আল-আমিন তৃতীয়। তার বাবা ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে গাড়ি চালকের কাজ করেন।
রবিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. রেজাউল করিম।
প্রেস রিলিজে জানানো হয়, গত ৪ অক্টোবর বিকেলে গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফুটবল প্রশিক্ষণ এ গিয়ে আর বাসায় ফিরে আসেনি আল-আমিন। এ সংক্রান্তে শিশুটির মা মোছা. নার্গিস খাতুন গোয়ালন্দ থানায় একটি হারানো জিডি করলে জেলা পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অফিসার ইনচার্জ গোয়ালন্দ ঘাট থানার নির্দেশে এসআই হাসানুল বান্না সাগরের নেতৃত্বে রাজবাড়ী জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম মাঠে নামে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, শিশুটির স্কুলের শিক্ষক তার ফেসবুকে হারিয়ে যাওয়ার একটি স্ট্যাটাস দিলে একটি প্রতারকচক্র টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অপহরণের নাটক সাজিয়ে শিশুটির অভিভাবকদের নিকট ৫০ হাজার টাকা দাবি মুক্তিপণ দাবি করে। শুরু থেকেই অপহরণের বিষয়টি পুলিশের সন্দেহজনক হওয়ায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন টিম পুরো জেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে রবিবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে রাজবাড়ী সদরের কাজি হেদায়েত হোসেনে স্টেডিয়াম মাঠে ফুটবল খেলাকালীন তাকে পাওয়া যায়। শিশুটিকে তার পরিবারের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আল-আমিনের বড় ভাই আলিম বলেন, আমাদের পরিবার থেকে ওর ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য কোন রকম বাঁধা প্রদান করা হয় না। ও কিসের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছে সেটা আমরা বলতে পারছি না।
আল-আমিন বলেন, আমার ফুটবল খেলা শেখার খুবই আগ্রহ। আমি ফুটবল খেলা আরও ভালোভাবে শেখার জন্য বাড়ি থেকে স্বেচ্ছায় রাজবাড়ীতে এসে প্রশিক্ষণ করছি। আমি তিন দিন রাজবাড়ী জেলা স্টেডিয়ামে মাঠে ছিলাম। আমি নিখোঁজ হয়নি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসানুল বান্না সাগর বলেন, আল-আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আল-আমিনকে খুঁজতে শুরু করি। একপর্যায়ে তাকে আমরা রাজবাড়ী হেদায়েত হোসেন স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে উদ্ধার করি।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, শিশুটি ফুটবল খেলতে পছন্দ করে। কিন্তু পরিবার ফুটবল খেলতে বাধা দেওয়ায় সে ঘর থেকে পালিয়ে এসে বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল খেলে বেড়াচ্ছিল। তাকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যারা মুঠোফোনে মুক্তিপণ চেয়েছিল, সেই প্রতারক চক্রটিকে ধরতে অভিযান চলছে।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোঃ রেজাউল করিম জানান, গোয়ালন্দ থানায় হারানো জিডি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করে। একসময় একটি নম্বর থেকে টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার কথা বললেও বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে আমাদের কয়েকটি টিমের খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে সদরে পাওয়া যায়। বিষয়টি ফুটবল খেলতে বারণ করার কারণে ঘটতে পারে বলে আল-আমিন আমাদের জানিয়েছে। তবে অপহরণের নাটক সাজানো চক্রকে ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।