পর্দায় 'মুকাদ্দার কা সিকান্দার'। রেখা এবং অমিতাভের প্রেমের দৃশ্য চলছে। সিনেমা হলের একেবারে সামনের আসনে বসে সেই দৃশ্য দেখছিলেন জয়া বচ্চন। হঠাৎ তার চোখ পানি চলে এলো। গাল-গলা বেয়ে সেই জল নেমেই চলল অবিরাম।
দৃশ্যটি ঠিক এভাবেই বর্ণনা করেছিলেন রেখা। তিনি সেদিন ছিলেন হলের প্রজেকশন রুমে। পর্দার পাশ থেকে তিনি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন জয়াকে। কিন্তু জয়ার পেছনের আসনে বসা অমিতাভ সেই অশ্রুপাত দেখতে পাননি।
এক সাক্ষাৎকারে ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেন রেখা। সেটা ১৯৭৮ সাল। 'মুকাদ্দার কা সিকান্দার'ই আগামী তিন বছরের জন্য শেষ ছবি হতে চলেছে তার আর অমিতাভ বচ্চনের। কানাঘুষোয় সবে রেখা শুনতে শুরু করেছেন অমিতাভ আর ছবি করবেন না তার সঙ্গে। কেন? সেই কারণ তিনি জানেন না
ঠিক এরকম একটা সময়েই স্টারডাস্ট পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘটনাটি বর্ণনা দেন রেখা। এ-ও বলেন, জয়াকে দেখে তার খারাপ লেগেছিল। সাক্ষাৎকারে রেখা বলেন, মুকাদ্দার কা সিকান্দার মুক্তি পাওয়ার আগে গোটা বচ্চন পরিবারের জন্য ছবিটির আগাম স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমিও সেদিন ছিলাম হলে। তবে প্রজেকশনের ঘরে। জয়া একেবারে সামনের আসনে বসেন। আমি ওকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। আমার আর অমিতজির ঘনিষ্ঠদৃশ্যের সময় তার চোখ থেকে পানি পড়েই যাচ্ছিল।
এ ঘটনার পর দিন থেকেই রেখাকে জনে জনে এসে বলে গিয়েছিল, অমিতাভ আর তার সঙ্গে ছবি করবেন না। এ ব্যাপারে নাকি প্রযোজকদের সঙ্গে কথাও বলতে শুরু করেছেন তিনি। বলিউডে সে সময় রটে গিয়েছিল অমিতাভের ওই সিদ্ধান্তের জেরেই রেখা আর জয়ার মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়।
১৯৭৮ সালের পর ১৯৮১ সালে যশ চোপড়া তিনজনকে নিয়ে তৈরি করেন 'সিলসিলা'। তার আগে পর্যন্ত এক অদ্ভুত শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তিনজনের মধ্যে। কিন্তু সেই ঘটনার বহুদিন পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন রেখা।
জয়া বচ্চন ও রেখা
জয়াকে 'দিদিভাই' বলে ডাকতেন রেখা। সিমি আগারওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেখা বলেছিলেন, 'দিদিভাই অনেক বেশি পরিণত। অনেক ধীরস্থির। আমি তার মতো মর্যাদাবোধসম্পন্ন মহিলা আজ পর্যন্ত দেখিনি। আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল একসময়ে। আমরা একই আবাসনে থাকতাম একটা সময়ে। আমি তাকে দিদিভাই বলে ডাকতাম। এখনো ডাকি। যা-ই হয়ে থাক না কেন এ সম্পর্ক কেউ আমার থেকে কেড়ে নিতে পারবে না।' রেখা আরো বলেন, 'আমি সেটা বরাবর মনে করেছি। আর আমি নিশ্চিত উনিও সেটা বুঝতে পেরেছিলেন।'
জয়ার সম্পর্কে বলতে গিয়ে রেখা বলেন, 'পুরো ব্যাপারটাই ছিল গুজব, সংবাদমাধ্যমের জন্য সব গোলমাল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার পরও যখনই আমাদের দেখা হয়েছে সব সময় হাসিমুখে কথা বলেছেন দিদিভাই। আমার কাছে তার সম্মান প্রতিমুহূর্তে বেড়েছে।' সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে