টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এঘটনায় সোমবার (১০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রাম থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এসময় মিরাজ ও সুমন নামের দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা ভূঞাপুর পৌরসভার পলিশা গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে ও টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির।
এর আগে, গত শনিবার (৮ অক্টোবর) রাতে স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে চারজনের নামে ভুঞাপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করতো তারই সহপাঠি মিরাজ। এক পর্যায়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বড় ভাই সুমন, ভাবি লাবণ্য ও চাচা মনিরুজ্জামানের সহায়তায় তাকে রাস্তা থেকে শুক্রবার (৭ অক্টোবর) অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ স্কুলছাত্রীসহ মিরাজ ও তার ভাই সুমনকে গ্রেপ্তার করে।
স্কুল শিক্ষার্থী জানায়, একই বিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে মিরাজ আমাকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিত। প্রেমের ফাঁদে ফেলে শুক্রবার মিরাজ ও তার ভাইসহ সকলের সহায়তায় আমাকে প্রথমে গাজীপুরের টঙ্গী এবং পরে সাভার তাদের আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়। টঙ্গীতেই মিরাজের সঙ্গে আমার বিয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে এক সাথেই আমরা সাভার ও গাজীপুরে থেকেছি। নলুয়াতে আসলে পুলিশ আমাদেরকে ধরে থানায় নিয়ে আসে।
স্কুল শিক্ষার্থীর মা জানান, নাবালিকা মেয়েটিকে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করা হয়েছে। আমরা দরিদ্র পরিবার।
ভূঞাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহমেদ জানান, থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অপহরণকারীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মেয়েটিকে উদ্ধারসহ দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধারসহ জড়িত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই স্কুলছাত্রীর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা শেষে ২২ ধারায় জবানবন্দির জন্য টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার দুই ভাইকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।