সৌদি আরবে বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী নারীকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান নারীদের গাড়ি চালানো, একা হজ করার অনুমতি, স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যেতে দেওয়ার মত সংস্কার করে যখন প্রশংসা পাচ্ছেন তখন দেশটিতে বিদেশি নারীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারছেন না তিনি।
সর্বশেষ এক কেনীয় নারীকে বাধ্য করা হয়েছে একটি কুকুরছানাকে তার বুকের দুধ খাওয়াতে। ওই নারীর অভিযোগ সৌদি আরবে তার নিয়োগকর্তা বাড়ির কয়েকটি কুকুরছানাকে বুকের দুধ খাওয়াতে বাধ্য করেছে তাকে।
যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যম ডেইলি স্টার সহ আফ্রিকার একাধিক গণমাধ্যম এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
ডেইলি স্টার জানায়, কেনিয়ার সেন্ট্রাল অর্গানাইজেশন অফ ট্রেড ইউনিয়ন (সিওটিইউ) এর সেক্রেটারি জেনারেল ফ্রান্সিস অ্যাটওলি এই ঘটনার পর কেনিয়ার শ্রমিকদের সৌদি আরবে অভিবাসনের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত কর্মসংস্থান সংস্থাগুলোকে নিষিদ্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
গত রবিবার অ্যাটওলি বলেন, তিনি সৌদি আরবের একজন প্রবাসী কেনিয়ান নারীর কাছ থেকে একটি বিরক্তিকর ভিডিও পেয়েছেন। ওই নারী অভিযোগ করেছেন, তার নিয়োগকর্তা তাকে তার কুকুরছানাগুলোকে বুকের দুধ খাওয়াতে বাধ্য করেছেন।
অ্যাটওলি কেনিয়ার এনটিভিকে বলেন, ‘ওই নারী কেনিয়াতে তার দুই মাসের একটি বাচ্চাসহ স্বামী এবং সন্তানদের রেখে গেছেন। সৌদি নিয়োগকর্তা বুঝতে পারে যে সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়ায় তার বুকে দুধ আছে, তাই তাকে তার বাড়ির কুকুরছানাগুলোকে বুকের দুধ খাওয়াতে বাধ্য করেন’।
অ্যাটওলি সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে কেনিয়ানদের দুর্দশার সমাধানের জন্য আন্তঃসরকারি কূটনীতির আহ্বানও জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি পরোক্ষ দাসত্ব, আমি এর আগে ফিলিস ক্যান্ডির অধীনে প্রেসিডেন্ট কিবাকির সরকার যেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সেভাবেই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমাদের সরকারের কাছে আবেদন করতে চাই। কিবাকি কেনিয়ার সমস্ত প্রবাসী কর্মসংস্থান সংস্থা নিষিদ্ধ করেছিলেন। বিদেশে কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব সরকারের হাতেই নেওয়া উচিৎ’।
তিনি আরও বলেন, ‘কেনিয়ার সরকারকে সৌদি আরবের সঙ্গে কর্মী নিয়োগের শর্তাবলী নিয়ে সরাসরি আলোচনা করতে হবে... যাতে আমাদের লোকেরা কুকুরছানাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো কাজ নয় বরং শালীন কাজ করতে পারে’।
আটওলি বলেন, সৌদি আরব যে অমানবিক কর্মকাণ্ড করছে তা কেনিয়ার মর্যাদা ও সম্মানকে অস্বীকার করছে।
তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কাজ স্বাধীন কেনিয়ান হিসেবে আমাদের নাগরিক মর্যাদা অস্বীকার করে। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাতে চাই, সমস্ত প্রবাসী কর্মসংস্থান সংস্থাগুলোকে নিষিদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী বিদেশের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করা হোক’।
অ্যাটওলি বলেন, বিদেশে কাজ করতে গিয়ে কেনিয়ানদের এভাবে মর্যাদা হারানোর চেয়ে তারা যেমন আছে তেমনি থাকাই ভাল।
তিনি সৌদিদের এ ধরনের আচরণকে পরোক্ষ দাসত্ব বলে অভিহিত করেছেন।