চার বছরেই শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম

বিসিবির ইচ্ছে ৪৮ মাসের মধ্যে শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করা। বিশ্বখ্যাত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান পপুলাসের সঙ্গে চুক্তিটাও সেই রকম। তবে সঠিক সময়ে প্রায় ৫০ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি নির্মাণ হবে কিনা সেটা বিসিবিও সঠিক করে বলতে পারছে না। কাল পপুলাসের সঙ্গে বিসিবির এই সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান যত দ্রুত সম্ভব এ স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করবেন।

স্টেডিয়ামটি তৈরি হবে তিন ভাগে। প্রথম ৬ মাসে এর ডিজাইন নিয়ে কাজ করবে পপুলাস। পরের ৩০ মাসে হবে কাঠামো নির্মাণ। আর শেষ ১২ মাসে পপুলাসের সঙ্গে মিলিতভাবেই স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের ত্রুটি-বিচ্যুতি সারানো হবে। আগামী বছর এপ্রিলে কাজ শুরু হয়ে শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম তাই পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ নাগাদ।

পপুলাস প্রতিষ্ঠানটি এর আগে আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়াম, ইন্টার ও এসি মিলানের নতুন স্টেডিয়াম দি ক্যাথেড্রাল, আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম, মেলবোর্ন স্টেডিয়াম, লন্ডনের ও২ অ্যারেনা, ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের ছাদে উল্টো চাঁদের মতো ডিজাইন নির্মাণের পরামর্শক ছিল। সম্প্রতি তারা লর্ডস স্টেডিয়ামের বর্ধিতাংশের ডিজাইন করেছে। বাংলাদেশের এই স্টেডিয়াম তৈরিতে ডিজাইনের নতুনত্ব প্রতিষ্ঠানটিকে আকৃষ্ট করেছে বলে জানান পরিচালক অ্যান্ড্রু জেমস, ‘আপনারা দেখবেন আমাদের সব স্টেডিয়ামের ডিজাইন কিন্তু ভিন্ন। একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা এখানে (বাংলাদেশ) এটাই প্রাধান্য দিয়েছি। এটার বিশেষত্ব যে বিসিবি চায় স্টেডিয়ামটি একটা নৌকার আদলে হোক, যা দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতীক। আমাদের জন্য এটা দারুণ নতুনত্ব ছিল।’

নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়া ও ডিজাইন সম্পর্কে অ্যান্ড্রু বলেন, ‘অন্য প্রতিষ্ঠান হয়তো ভেবেছে যে কীভাবে একটা নৌকার আদলে একটা স্টেডিয়াম হয়। কিন্তু আমরা এটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। গ্রামবাংলার প্রধান যাতায়াতের মাধ্যমটিকে (নৌকা) আমরা প্রথমে দেখেছি। সেভাবেই ডিজাইন তৈরি করেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা নিশ্চিত করতে চেয়েছি যে স্টেডিয়ামের পাশের হাইওয়ে থেকে কাঠামোটি কেমন দেখা যাবে। মানুষ যেন নৌকাটা দেখে সেটা নিশ্চিত করতে চেয়েছি। আশা করি এটা আমাদের সেরা কাজগুলোর একটি হবে। এবং আমাদের যেভাবে বিশ্বজুড়ে মানুষ চেনে এই কাজের মাধ্যমে আমাদের পরিচিতি আরও বাড়বে।’