ময়মনসিংহে শনিবার (১৫ অক্টোবর) বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্ততি নিচ্ছে দলটি। ইতোমধ্যে সাতটি জেলা ইউনিট ও উপজেলা কমিটির প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন হয়েছে। বিভাগীয় সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্য দিয়ে জনগণের অভ্যুত্থান ঘটাতে চায় বিএনপি।
অপরদিকে একই দিনে নগরীর কৃষ্ণচূড়া চত্বরে জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তারা বলছেন, বিএনপির সমাবেশ কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা জানমালের ক্ষতির চেষ্টা করা হলে প্রতিহত করা হবে।
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ও জেলাসমূহের নেতারা বক্তব্য দেবেন। সমাবেশে লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ ঘটাতে একাধিক প্রস্তুতি সভা, কর্মী সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণরে মাধ্য প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছে বিএনপি।
মতবিনিময়কালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কারো শত্রু নই আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। কারো সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব নেই। আমরা শান্তির্পূণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সমাবেশ করতে চাই। এ জন্যে প্রশাসনসহ সকলের সহয়োগিতা কামনা করছি। সংবিধানের সবটুকু অধিকার আমরা পেতে চাই।
তিনি জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনারা সব বাধা অতিক্রম করে নিজ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হোন।
শুনেছি আমাদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমরা অনেকদিন আগে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছি। সেটি প্রচার হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সমাবেশ ডাকার মানে উসকানি দেওয়া। যেহেতু আমরা আগে সমাবেশ ডেকেছি, সে কারণে আমরা মাঠের ব্যাপারে সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখি। তবে শত বাধা উপেক্ষা করে, পায়ে হেঁটেও হলেও মানুষ সমাবেশে আসবে বলে দাবি করেন নজরুল ইসলাম খান।
শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিএনপিকে নগরীর মাসকান্দা এলাকায় পলিটেকনিক ইস্টিটিউট মাঠ বরাদ্দ দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ৭টি জেলা ইউনিটসহ সকল ইউনিট কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমাবেশের দিন পথে পথে যদি বাধা দেওয়া হয় তাহলে এই সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে। যেখানেই বাধা আসবেই সেখানেই বিএনপির সমাবেশ মঞ্চ হয়ে যাবে।
কেন্দ্রীয় বিএনপি বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এই বিভাগীয় সমাবেশের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। জনগণ জেগে উঠছে, জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেই। জনগণ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা আর রাজনৈতিক দল হিসাবে কাজ করতে পারছে না। সমাবেশকে ঘিরে সাধারণ মানুষসহ দলীয় নেতাকর্মীদের যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে তাতে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ হবে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, বিএনপির সমাবেশ কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা জান মালের ক্ষতির চেষ্টা করা হলে কঠোর ভাবে প্রতিহত করা হবে। আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করবো, কিন্তু বিএনপি যদি কোনো দেশবিরোধী বক্তব্য ও জনগণের জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে সমাবেশ থেকে বিএনপিকে প্রতিহত করার সকল প্রস্ততি নেবে।
এদিকে জেলা নাগরিক আন্দোলের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জি. নুরুল আমীন কালাম বলেন, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সকল দলেরই আছে। আমরা চাই না এই দুই দলের সমাবেশকে ঘিরে শহরে কোন বিশৃঙ্খলা ও হানাহানি হোক। সেই দিকে দুই দলের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করি।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বী বলেন, বিএনপি যদি শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করে তাহলে তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। যদি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যদি বিশৃঙ্খলা করে তাহলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সব দলের কর্মসূচি পালনের অধিকার আছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একই দিনে পৃথক স্থানে আওয়ামী লীগ তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী যেন একই জায়গায় না হয় সেদিকে পুলিশের ব্যপক নজরদারি থাকবে।