পনেরো বছরের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে এক বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে সমঝোতায় পৌঁছেছে ফিলিস্তিনের দুই প্রভাবশালী গোষ্ঠী ফাতাহ ও হামাস। আলজেরিয়ার মধ্যস্থতায় কয়েক মাসের আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার আলজিয়ার্সে তারা এ নিয়ে এক চুক্তিতে স্বাক্ষরও করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ মুভমেন্ট ও ইসলামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যকার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে এই চুক্তিটি হয়েছে। দুইপক্ষের এই দ্বন্দ্ব গাজা ভূখণ্ড ও পশ্চিমতীরের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র পাওয়ার আকাক্সক্ষায় বাগড়া দিচ্ছে। রয়টার্স বলছে, চুক্তি হলেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচন আয়োজনে রাজি হলেও ঐক্যের সরকার গঠন নিয়ে দুইপক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি।
২০০৬ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে হামাসের জয়ের পর ফিলিস্তিনি পক্ষগুলোর মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই বিভক্তির কারণে এরপর আর কোনো নির্বাচনও হয়নি। ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের বিরোধী ইসলামিক গোষ্ঠী হামাস ২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়; অন্যদিকে আব্বাসের পশ্চিমা-সমর্থিত ফিলিস্তিনি
কর্র্তৃপক্ষ পশ্চিমতীরে তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে।চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর ফাতাহর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজম আল-আহমদ নির্বাচন আয়োজনে চুক্তির বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করেছেন, বছরের পর বছর ধরে চলা বিভক্তিকে ‘ক্যানসার’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন।
হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, চুক্তি হওয়ায় আজ ফিলিস্তিনিদের জন্য খুশির দিন, দখলদার ইসরায়েলের জন্য বেদনার দিন। চুক্তিতে এক বছরের মধ্যে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) ন্যাশনাল কাউন্সিল নির্বাচন করার বিষয়েও সমঝাতা হয়েছে। ফাতাহর আব্বাস পিএলওরও প্রধান। আলজেরিয়ার মধ্যস্থতায় কয়েক মাসের এ আলোচনায় হামাস, ফাতাহসহ ১৪টি গোষ্ঠীর নেতারা ছিলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। অবশ্য দুই বছর আগেও ফাতাহ ও হামাসের শীর্ষ নেতৃত্ব ইসমাইল হানিয়া এবং মাহমুদ আব্বাস ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজি হয়েছিলেন। নির্বাচনের খবরে গাজা, রামাল্লা ও পশ্চিম তীরের মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ উৎসবও করেন। তবে ফাতাহ ও হামাসের মধ্যকার এই বিভেদ নিছক বিবাদ নয়, এই বিবাদ আদর্শিক।