আঁচিল নিয়ে ভাবনা নেই

শরীরের ত্বকে যেখানে একসঙ্গে অনেক মেলানোসাইট ক্লাস্টার হিসেবে তৈরি হয়, সেই স্থান তিলে পরিণত হয়। তিল ত্বকের কোনো ‘রোগ’ নয়। ত্বকের কোষ গঠনের সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সেটাও এমন কিছু নয় যে তার জন্য চিকিৎসা নিতে হবে। তিল প্রধানত জিনগত কারণে হয়। তা ছাড়া অতিরিক্ত সূর্যালোকে যাওয়া ও রেডিয়েশন থেরাপি দীর্ঘদিন চললেও তিল হতে পারে। কেউ দীর্ঘদিন অন্য কোনো রোগের ওষুধ সেবন করলেও এ রোগ হয়।

শরীরের ত্বকের কিছু তিলের পরিবর্তন বা স্ফীতি দেখা দিলে, তার সঙ্গে খাবারে অরুচি, হঠাৎ ওজন হ্রাস, মলত্যাগের অভ্যাসের আকস্মিক পরিবর্তন থাকলে অবহেলা করা ঠিক না। কোনো কোনো সময়ে পরিবর্তিত তিল ক্যানসারের আভাসও দিতে পারে। তাই সতর্ক থেকে ত্বকের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রাখা ভালো।

লাল তিল বৃত্তান্ত

সাধারণভাবে শরীরের যেসব অংশে চামড়ার ঠিক নিচেই শিরা (যেমন ঘাড়, গলা, পিঠ কিংবা বুক) থাকে, সেখানেই এ ধরনের লালচে আঁচিল তৈরি হয়। চলতি কথায় এ জাতীয় আঁচিলকে রুবি পয়েন্ট বলা হলেও চিকিৎসার পরিভাষায় এর নাম ক্যাম্পবেল দে মরগ্যান স্পট। সাধারণত ত্বকের নিচে অবস্থিত কোনো শিরার স্ফীতি ঘটলে ত্বকের ওপর এ রকম আঁচিল তৈরি হয়। ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে যখন রক্তবাহী শিরা বা ধমনি পাতলা হতে থাকে, তখনই এ ধরনের আঁচিল তৈরির আশঙ্কা বাড়ে। লাল রঙের আঁচিলগুলো বিনাইন বা নির্বিষ টিউমার।

অতিরিক্ত তিল কি ক্যানসারের লক্ষণ

শরীরে তিল বা আঁচিলের সংখ্যা থেকে ত্বকের ক্যানসারের বিষয়ে ধারণা করা যায়। তিল থেকে ত্বকের ক্যানসার মেলানোমা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করতে হবে তা হলোÑ তিলের রং হঠাৎ পরিবর্তন হওয়া, হঠাৎ আকারে অনেক বেড়ে যাওয়া বা ছোট হয়ে যাওয়া, তিলের আকৃতি মসৃণ হওয়া ইত্যাদি পরিবর্তন, তিলের উপরিভাগ যদি শুষ্ক আর মাছের আঁশের মতো খসখসে মনে হয়, চুলকানি দেখা দেয় বা রক্তপাত হয়। অনেকের মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বাদামি, কালো ও লালচে রঙের তিল হয়ে থাকে। মুখে গলায় অবাঞ্ছিত ও অজস্র তিলের জন্য মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। অনেকে এর সমাধানও খুঁজে থাকেন।

তিলের চিকিৎসা

তিল যেহেতু এমনিতে কোনো ক্ষতি করে না, সৌন্দর্যগত কারণেই এটা অপসারণ করা হয়। বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি হচ্ছে ইলেকট্রো সার্জারি। এতে একটি যন্ত্রের মাধ্যমে তিলটি সরিয়ে ফেলা হয়। এ ক্ষেত্রে দাগও মিলিয়ে যায় খুব দ্রুত। এ ছাড়া লেজার রিসারফেসিং, ফ্র্যাকশনাল লেজারও ব্যবহার করা হয়। এসব চিকিৎসা অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে করাতে হবে। ভুল চিকিৎসা এবং ক্ষতিকর ব্লিচিং এজেন্ট ব্যবহারের কারণে ত্বকে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।