বরিশালের বাবুগঞ্জে ইলিশ রক্ষার অভিযানে ব্যবহৃত একটি ট্রলার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সুগন্ধা নদীর লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত ফাতিমার উপস্থিতিতে তার দেহরক্ষী আনসার সদস্যরা ট্রলারটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত ফাতিমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করা ট্রলারটিতে আগুন দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। কারণ ট্রলার মাঝি আনোয়ারই জানিয়েছেন, গ্যাসের চুলা থেকে এ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। সেই সঙ্গে আকস্মিক ট্রলারটিতে আগুন লাগায় তিনিও কিছুটা হতভম্ব হয়ে যান।
এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।
ট্রলারের মালিক ও চালক আনোয়ার হোসেন গতকাল সকালে বলেন, ‘ঘটনাটি সবার সামনেই হয়েছে, সবাই দেখেছে কী হয়েছে। আমি ট্রলারটি খোয়া যাওয়ার পর দিশেহারা। কারণ আমার সম্বল ছিল এটাই।’
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে তার ট্রলারে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযানে যান বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত ফাতিমা। অভিযানে বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিমুল রানী পাল ছাড়া পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। মোল্লারহাট, কাশিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু জাল ও ইলিশ জব্দ করে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় কেদারপুর খেয়াঘাটে ফিরে আসেন তারা। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান, মৎস্য কর্মকর্তা, থানা পুলিশের সদস্যদের উপস্থিতিতে ইউএনও বিভিন্ন এতিমখানায় জব্দ ইলিশ বিতরণ করেন এবং জব্দ করা জাল নদীতীরে পুড়িয়ে ধ্বংস করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, জাল পোড়ানোর পর হঠাৎ ইউএনও আনোয়ারের ট্রলারটির সামনে যান এবং তার দেহরক্ষী আনসার সদস্যরা ট্রলারটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। তবে এর আগেই তুচ্ছ ঘটনায় ইউএনও আনেয়ারের ওপর চটে গেলে তিনি (আনোয়ার) পালিয়ে যান।
আনোয়ার জব্দ করা কিছু মাছ সরিয়ে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দেহরক্ষী আনসার সদস্য মামুন হাওলাদার ও সুকদেব দাস জানান, যখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত ফাতিমা বিভিন্ন এতিমখানায় জব্দ ইলিশ বিতরণ করছিলেন, তখন ট্রলারটির ভেতরে হঠাৎ করেই আগুন জ¦লতে দেখেন। আর বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনিসহ সবাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে।
অভিযোগের বিষয়ে নুসরাত ফাতিমা বলেন, ‘আনোয়ার হোসেনের ট্রলারটি প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার অভিযান, অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যা আমাদের কাজে লেগেছে। সেটিতে আগুন দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না; বরং আগুন লাগার পর আমিসহ ঘটনাস্থলে থাকা সবাই হতবাক হয়ে যাই। আমি তাৎক্ষণিক আনোয়ার মাঝিকে খুঁজেও পাইনি। তবে পরে তার কাছ থেকে জানতে পেরেছি গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে আগুন লেগেছে ট্রলারটিতে।’