হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন কৌতুক অভিনেতা রনি

দীর্ঘ এক মাস পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন গাজীপুরে বিস্ফোরণে দগ্ধ কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনি। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

শনিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এক সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন রনি ও পুলিশ সদস্য জিল্লুর রহমানের হাতে ছাড়পত্র তুলে দেন।

এসময় ডা. সেন বলেন, রনি আজ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন, এজন্য আমরা খুবই আনন্দিত।

তিনি জানান, রনি যখন দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন তখন থেকেই চিকিৎসকরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তার জন্য। এসকল দুর্ঘটনা এড়াতে আইজিপিসহ দেশবাসী সবাইকে সতর্ক থাকা ও সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার পরামর্শ দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় আহত হন রনিসহ পুলিশের ৪ সদস্য। দগ্ধ রোগীদের জন্য বার্ন ইনস্টিটিউট একটি আস্থার জায়গা। রনিকে বিদেশ পাঠানোর জন্য যখন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিলো তখন বার্ন ইনস্টিটিউটের উপর আস্থা রেখে রনি এখানেই চিকিৎসা নেবেন বলে জানান।

চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। কৌতুক অভিনেতা রনি আবার সবাইকে মাতিয়ে রাখবেন বলে আশাব্যক্ত করেন পুলিশ প্রধান।

চিকিৎসক, নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন আবু হেনা রনি। ভয়াবহ ও অসহ্য এই অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করে তিনি বলেন, পুড়া রোগীর কি যে কষ্ট তা নিজের না পুড়লে বুঝা যাবে না। দেশের প্রতিটি বিভাগে আলাদাভাবে বার্ন ইনস্টিটিউট থাকা উচিৎ। এতে এসব রোগীদের কষ্ট আরও কমবে। এরআগে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে যাতে কাউকে হাসপাতালে যেতে না হয়। আর এই সচেতনতার জন্য সবার কাজ করা উচিৎ।"

আইজিপি, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনারসহ সবাই সার্বক্ষণিক ও মানবিক ভাবে খোঁজখবর রাখার জন্য তাদেরকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

এরআগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) চতুর্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে দগ্ধ হন দেশবরেণ্য কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনিসহ পুলিশের ৪ সদস্য। রনি ও পুলিশ সদস্য জিল্লুর রহমানকে ওই দিনই ঢাকায় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। শ্বাসনালী সহ রনির শরীরের ২৫ শতাংশ ও জিল্লুরের ১৯ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিলো। পরবর্তীতে তাদের চিকিৎসার জন্য গঠিত হয় ১৩ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড।