নরসিংদীর শিবপুরে আলোচিত আরিফ পাঠান মেম্বার হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসাতে সাক্ষী সজিব মিয়া (৩০) মিথ্যা গুলিবিদ্ধ হওয়ার নাটক সাজিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছুরি দিয়ে নিজের বুক নিজেই চিরে বন্ধুকে দিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার নাটক সাজিয়েছেন সজিব। পরে পুলিশের তদন্তে তা উদ্ঘাটিত হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আল আমীন।
পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, আরিফ পাঠান মেম্বার হত্যা মামলায় সাক্ষী দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিদের ছোড়া গুলিতে সজিব মিয়া নামে এক সাক্ষী গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে গত শুক্রবার একাধিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে এ ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাস্থল পাঁচদোনা বাজারের আশেপাশে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফুটেজে তাদের স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে যেতে দেখা যায় এবং আর কাউকেই আশপাশে দেখা যায়নি। পরবর্তীকালে সজিব মিয়ার বন্ধু মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, সজিব নিজের স্বার্থে সম্পূর্ণ ঘটনা সাজিয়েছে। সে কোনো প্রকার গুলিবিদ্ধ হয়নি। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সে মামুনকে দিয়ে মিথ্যা কথা বলায়। ঘটনার দিন সে মাধবদী থানার পাঁচদোনার দাসপাড়ার পুকুর পাড়ের এক নির্জন স্থানে বন্ধু মামুনকে নিয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেই ছুরি দিয়ে বুক চিরে এবং শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত করে হাসপাতালে যায়। সেখানে ডাক্তারকে গুলিবিদ্ধ হয়েছে মর্মে উপস্থাপন করলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। ঢাকা মেডিকেল তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেয়। পরে মাধবদী এলে সজিবকে তার বন্ধু মামুনের মুখোমুখি করলে সে পুরো ঘটনা স্বীকার করে। আসামিদের শায়েস্তা করা এবং পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এ ঘটনা সাজিয়েছে সে। এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমীন।