রাশিয়ায় আবাসিক এলাকায় যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত, নিহত বেড়ে ১৩

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ইয়েস্ক শহরের একটি আবাসিক এলাকায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সোমবার উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই এসইউ-৩৪ জঙ্গি বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আগুন ধরে যায়। নয়তলা ওই ভবনের বেশ কয়েকটি তলা ভেঙে পড়েছে।

এই ঘটনায় অন্তত ১৯ জন আহ হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাশিয়ার সামরিক সংবাদমাধ্যম জেভেজদা একটি ভিডি প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, সুখোই সু-৩৪ সুপারসনিক মাঝারি পাল্লার জঙ্গি বিমানটি আবাসিক ভবনে বিধ্বস্ত হয়েছে। 

রুশ সংস্থাগুলো বলছে, পাইলট প্যারাস্যুটের সাহায্যে বিমান থেকে জরুরি অবতরণ করেছেন। ওই ভিডিও ফুটেজে আরও দেখা গেছে, জঙ্গি বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ৯তলা ভবনের বড় অংশে আগুন ধরে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, পরে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটিতে বোমা ছিল। তবে ক্রাসনোদারের আঞ্চলিক গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতইয়েভ তা অস্বীকার করেছেন।

রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়ার খবরে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের  গভর্নর বলেছেন, যদি বিমানটিতে গোলা থাকত, তাহলে ভবনের কেবল অর্ধেক টিকে থাকত।

সংবাদ সংস্থা রিয়া বলছে, প্রশিক্ষণের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রিয়ার খবরে বলা হয়েছে, পাইলট বলেছেন, উড্ডয়নের সময় বিমানের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। ভবনটিতে আঘাতের পর আগুন ধরে যায়।

রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তি জানিয়েছে, ইয়েস্কের স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় এসইউ-৩৪ সুপারসনিক ফাইটার-বোম্বারটি একটি আবাসিক ভবনের সামনের উঠানে বিধ্বস্ত হয়, এ সময় বিমানটিতে থাকা জেট ফুয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

আগুন সংলগ্ন একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের প্রথম পাঁচ তলার ২০০০ মিটার স্কয়ারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি শেষ করেছে এবং এ সময় ৬৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ও ৩৬০ জনকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে।