থমথমে মুন্সীগঞ্জের সোলারচর ৩৫ বছর ধরে চলছে বিরোধ

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদরের আধারা ইউনিয়নের বকুলতলা ও সোলারচর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, সোলারচর গ্রামে আওয়ামী লীগের ওই দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ পর্যন্ত সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫ জন।

জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৯৮৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ মেম্বার ও আলী হোসেনের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হন মজিবুর রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৯৯৯ সালে দুলাল মাঝি, ২০০০ সালে আক্তার হোসেন ও ২০১৩ সালে রুবেল মিয়া নিহত হন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আধারা ইউনিয়নের সোলারচর ও বকুলতলা গ্রাম ঘুরে এ সব তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ গত সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আধারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো, সুরুজ মেম্বার ও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী হোসেনের দুগ্রুপের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মনির হোসেন মোল্লা (৭০) নামে এক বৃদ্ধ।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মনির হোসেন মোল্লা নিহতের ঘটনায় সদর থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ আনা হবে বকুলতলা গ্রামের বাড়িতে। তার ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে। ২ ছেলে প্রবাসে রয়েছেন।

নিহতের পুত্রবধূ সামিয়া বেগম জানান, তার শ^শুর নামাজ আদায় করে বাড়ি থেকে বের হন। সে সময় দুই দলের মধ্যে ছোটাছুটি ও ককটেল বিস্ফোরণ হচ্ছিল। এ ছাড়া গুলিও করছিল। তার মধ্যেই তার শ^শুর গুলিবিদ্ধ হন। নিহতের স্ত্রী মঞ্জু বেগম বলেন, আমার স্বামী কোনো দলাদলি করে না। তাকে কেন গুলি করে মারলো। যেভাবে আমার স্বামীর বুকে গুলি করছে, তাতেই উনি পইর‌্যা গেছেন। লোকজন ধরাধরি করে ঢাকা নিয়ে গেলে মারা যান উনি। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।