বহুল প্রতীক্ষিত পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক চুল্লিপাত্র (রিঅ্যাকটর প্রেসার ভেসেল) বসানো হয়েছে। এটাকে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের হৃৎপিণ্ডও বলা হয়।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ড. ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. শৌকত আকবর, প্রকল্পের ঠিকাদার রাশিয়ার পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সান্ডার লেখসেভ, স্থানীয় এমপি নুরুজ্জামান বিশ্বাসসহ রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কাজের সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। প্রথম ইউনিটের চুল্লি স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি স্থাপন শুরু হচ্ছে। যা পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য একটি বড় অর্জন বলে মনে করছেন রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা।
প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর বলেন, ‘২০২১ সালের ১০ অক্টোবর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের চুল্লি পাত্র স্থাপনের কাজের উদ্বোধন হয়। ইতিমধ্যে প্রথম ইউনিটের কাজের ৭০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। প্রথম ইউনিটের চুল্লি স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি স্থাপনের কাজ শুরু হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ সময় অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষের দিকে প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এ প্রকল্পে রাশিয়ার উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক (থ্রি প্লাস জেনারেশন) ‘ভিভিইআর ১২০০’ প্রযুক্তির পরমাণু চুল্লি ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি চুল্লি স্থাপন হচ্ছে রূপপুরে। দুই ইউনিটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম। আর ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট। বাস্তবায়ন ব্যয় বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদি এবং গ্যাস, তেল ও কয়লার মতো জ¦ালানি খরচ না থাকায় তুলনামূলক সস্তা হবে এ বিদ্যুৎ। এ প্রকল্পের ‘লাইফ’ বা জীবনীশক্তি হবে ৫০ বছর। আর তা সংস্কার করলে দাঁড়াবে ৮০ বছর।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ভৌত অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হলেই উৎপাদন শুরু করা যাবে না। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন শুরু করতে প্রকল্প এলাকার আনুষঙ্গিক সব ধরনের নির্মাণকাজ শেষ হতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত মূল প্রকল্পের বাইরের অন্যান্য অবকাঠামোগত নির্মাণ শেষ হওয়া এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইন মেনে উৎপাদনে যেতে হয়। ফলে উৎপাদন শুরু হওয়ার সঙ্গে প্রতিটি বিষয় সম্পর্কিত।
প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৫৫ শতাংশ ভৌত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে।