চীনের কাছে থেকে সুপারসনিক যুদ্ধবিমান কিনছে মিয়ানমার

মিয়ানমারের বিমানবাহিনী চীনের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি মাঝারি পাল্লার সুপারসনিক যুদ্ধবিমান কিনছে। এরই মধ্যে মিয়ানমার চীনকে বেশ কয়েকটি এফটিসি-২০০০জি সিরিজের যুদ্ধবিমান সরবরাহের অনুরোধ করেছে। থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে কুনমিং হয়ে মিয়ানমার বিমানবাহিনীর অন্তত ৮ জন পাইলট, ৮ জন প্রকৌশলী এবং অন্তত ২ অস্ত্র বিশেষজ্ঞ চীন সফর করেন। চীনে করোনা মহামারির কারণে কড়া বিধিনিষেধ থাকায় মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলটি কুনমিংয়েই বেশ কয়েক দিন কোয়ারেন্টিনে ছিল। সফরে যাওয়া পাইলটেরা চীনের তৈরি এফ-৭ ইন্টারসেপ্টর, মার্কিন এ-৫ বোম্বার যুদ্ধবিমান চালানোয় পারদর্শী।

এই যুদ্ধবিমানগুলো কেনা-বেচায় মধ্যস্থতাকারী একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই যুদ্ধবিমানগুলো মিয়ানমারের যুদ্ধবিমানের বহরে থাকা এফ-৭ এস এবং এ-৫ এসকে প্রতিস্থাপন করবে। এবং এই বিমানগুলোকে দেশটির শান রাজ্যের নামসাঙ বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে। একেকটি এফটিসি-২০০০জি যুদ্ধবিমানের ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৮৫ লাখ ডলার করে। চীনের সেনাবাহিনীও এই বিমান ব্যবহার করে থাকে।

এফটিসি-২০০০জি মূলত দুই আসন বিশিষ্ট মাঝারি পাল্লার মাল্টি রোল ট্রেইনার যুদ্ধবিমান। চীনের গুইঝৌ অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়নার (এভিআইসি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই বিমানগুলো তৈরি করে থাকে।

এই বিমান নিয়ে চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে কবে চুক্তি হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সালে থেকেই হয়তো চীনা এই যুদ্ধ বিমান কেনা শুরু হয়েছে মিয়ানমারের। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারী এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করার বিষয়ে চীনের কঠোর নীতির কারণে বিতরণ এবং পাইলট প্রশিক্ষণ বিলম্বিত হয়েছিল।

২০২০ সালের এপ্রিলে কম্বোডিয়া এবং চীনের গ্লোবাল টাইমস-এ খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, চীন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশে বিমানটি বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছে। তবে কতগুলো বিক্রি করা হবে তা বলা হয়নি। সেসময় জানানো হয়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ২০২১ সালের প্রথম দিকে বিতরণ শুরু হয়ে দুই বছর পরে শেষ হবে।

আরও পড়ুন...

মিয়ানমারের মোকাবিলায় বন্ধুহীন বাংলাদেশ

মিয়ানমারের রাখাইনে চীনের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু