ছোটবেলা থেকে পরিবারের ইচ্ছা ছিল শাহরিয়ার বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি করার জন্য দুই বার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাও দেন তিনি। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিংয়ে ভর্তি হন তিনি। অনার্স শেষ করে চাকরির ইচ্ছা ছিল শাহরিয়ারের। কিন্ত এক নিমিষেই সব স্বপ্ন ভঙ্গ করে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবর রহমান হল ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন ২৫ বছর বয়সী গোলাম মুস্তাক শাহরিয়ার। পরে সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মারা যান।
নিহত শাহরিয়ার দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার ভান্ডারা ইউনিয়নের বেতুড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য গোলাম মোস্তফা ও শাহানারা বেগম দম্পত্তির ছোট ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে শাহরিয়ার ছিল মেঝ। বড় ভাই গোলাম সারওয়ার শাকিল পড়াশোনা শেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় একটি চাতালে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত শাহরিয়ারের মা শাহানারা বেগম বলেন, “সন্ধ্যায় বাবার (ছেলের) সাথে শেষ কথা হয়। আমি কয়েকদিন ধরে খারাপ খারাপ স্বপ্ন দেখছি। আমি তাকে সাবধানে থাকতে বলি। জবাবে সে আমাকে জানায় রাতে সে সাপের স্বপ্ন দেখেছে। আমি তাকে স্বপ্নে সাপকে লাঠি দিয়ে মেরে ফেলতে বলি। এরপর থেকে আমাদের সাবধানে থাকতে বলে ফোন কেটে দেয়।
শাহানারা বেগম বলেন, সে সব সময় বলত অনার্স শেষ করেই চাকরি শুরু করবে। তার চাকরিও রেডি আছে। চাকরি করতে করতেই মাস্টার্স শেষ করবে। চাকরি থেকে পাওয়া টাকা বাবার হাতে তুলে দিতে চাইছিল। কিন্তু আমার ছেলেটারে আল্লাহ এভাবে কেন নিল? সে প্রায় রক্তদান করতো। সে বলত রক্তদান করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যাবে। রক্ত দিলে মানুষ বাঁচবে।
নিহতের রুমমেট ও সহপাঠী নাজমুল হাসান বলেন, “৪ বছর ধরে আমরা একসাথে এক রুমে থাকি। গতকাল (বুধবার) বিকেলে আমরা রুম থেকে বের হয়ে যাই। সে এক জায়গায় চলে যায় আর আমি অন্য জায়গায়। সন্ধ্যার দিকে শাহরিয়ারের ছাদ থেকে পড়ে গেছে এমন খবর পাই। পরে হাসপাতালে গিয়ে দেখি সে আহত অবস্থায় ছটফট করছে। আমরা সে সময় কোথাও কোনো ডাক্তারকে খুঁজে পাইনি। তাকে জরুরিভাবে আইসিইউতে ভর্তি করানোর জন্য বার বার বলা হলেও আমাদের কথায় কেউ কর্ণপাত করেনি।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবর রহমান হলের প্রভোষ্ট শরিফুল ইসলাম বলেন, “নিহত শাহরিয়ার একজন ভালো ছাত্রের পাশাপাশি ভালো ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। তার ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার পর আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখি সে মারা গেছে। তার এই মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।”