ভালোয় ভালোয় সরে পড়ুন, সরকারকে মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। ভালোয় ভালোয় সরে পড়ুন। ইতিহাস ভুলে যাবেন না। নইলে দেশের জনগণ জানে কীভাবে সরাতে হয়।’

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সারাদেশে ধরপাকড়, মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার, জামিন বাতিল করে নেতাকর্মীদের কারাগারে প্রেরণ, পুলিশি হামলা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের প্রতিবাদে দেশের সব জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবিলম্বে মিথ্যা মামলা ও গুলি করে মানুষ হত্যা বন্ধ করেন। ইতিহাস ভুলে যাবেন না। দেয়ালের লিখন পড়ুন। সাধারণ মানুষের মনের ভাষা বুঝতে শিখুন। দেশের মানুষ কাউকে ক্ষমা করেনি।’

‘ধৈর্য্য ধরুণ, বিদ্যুৎ পাবেন’-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আর কতো ধৈর্য্য ধরব। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। আমাদের তো আর চলে না। দেশের কলকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কলকারখানা বন্ধ হলে লাখ লাখ কর্মী বেকার হবে। এদিকে আজকে আবার প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সরকার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাচ্ছে। দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে সরকার আজ সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার করছে।’

সমাবেশে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘যেখানেই বাধা সেখানেই সমাবেশ। ১০ ডিসেম্বর ঢাকা হবে সমাবেশের শহর। হাসিনা কতো বাধা দিবেন? হাসিনার দিন শেষ। দেশের জনগণ আর সরকারকে এক মুহুর্তও দেখতে চায় না। শেখ হাসিনার অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না এবং হতে দেওয়া হবে না।’

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘খেলা শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ এখন হাবুডুবু খাচ্ছে। আওয়ামী লীগ লেজ গুটিয়ে দৌড় দিয়েছে। তাদেরকে এখন তারেক রোগে পাইছে। তারেক রহমান দেশে আসলে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। যারা সমাবেশে যাওয়ার আগেই বাস চলাচল বন্ধ করে দেন তাদের কালো তালিকা করা হবে।’

দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দুপুর ১২টা থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের নেতাকর্মীরা। সমাবেশের কারণে ফকিরাপুল মোড় থেকে কাকরাইলের নাইটিংগেল মোড় পর্যন্ত সড়কের দক্ষিণ পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জলকামান, প্রিজনভ্যান, এপিসি নিয়ে কাকরাইলে মোড়ে অবস্থান নেন।

সরকার সরাতে না পারলে জাতির অস্তিত্ত্ব থাকবে না

এর আগে দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে ‘মৃত্যুকূপে ধাবমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না, জাতির অস্তিত্ব থাকবে না। বিগত ১৪ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মত্যাগকে শক্তিতে পরিণত করে আমাদেরকে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। রাজপথে নেমে সরকারকে না বলে দিতে হবে।’

সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে সারাদেশে পুলিশের গুলিতে নিহতদের স্মরণে ‘পুস্তিকা’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চলমান আন্দোলন দমন করার জন্য সরকার ভয়ংকরভাবে কাজ করছে। তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, আবার বিরোধী দলের সমাবেশে বাধা দিচ্ছে। বাস মালিকদের দিয়ে গণপরিবহন বন্ধ করেছে। কারণ একটাই সমাবেশ বড় না হলে সরকার বলবে বিএনপির সমাবেশ বড় হয়নি। কিন্তু দেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমে আছে তা কি ওরা মুছে দিতে পারবে? পারবে না।’

গত ২২ আগস্ট থেকে জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি জেলা উপজেলা পর্যায়ে সভা-সমাবেশের কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচি পালনকালে ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুর রহিম, ছাত্রদলের নুরে আলম, নারায়নগঞ্জে যুবদলের রাজা আহমেদ শাওন, মুন্সিগঞ্জে যুব দলের শহিদুল ইসলাম শাওন পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ‘জিয়া পরিষদ’ এর উদ্যোগে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও জ্যেষ্ঠ মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন জিয়া পরিষদেও নেতা অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান ফরহাদ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, নিহত শহিদুল ইসলাম শাওনের বাবা ছোয়াব আলী ভুঁইয়া প্রমুখ।