সাভারে পরিত্যক্ত কুয়া থেকে নারী শ্রমিকের গলিত লাশ উদ্ধার

সাভারে আশুলিয়ায় পরিত্যক্ত একটি কুয়া থেকে নিখোঁজ এক নারী শ্রমিকের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

আশুলিয়ার সদরপুর গ্রামের নির্জন জায়গায় অবস্থিত ওই পরিত্যক্ত কুয়াটির গভীরতা অন্তত ৫০ ফুট বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

নিহত ওই নারীর নাম পলি (৩২)। সে ঝালকাঠি জেলার পুঞ্জিপুতিপাড়া গ্রামের হাশেম মোল্লার মেয়ে। পলি আশুলিয়ায় পলমল গ্রুপের মালিকানাধীন আর.কে-২ নামক তৈরি পোশাক কারখানায় অপারেটর পদে চাকরি করতেন। 

নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পলমল গ্রুপের শ্রমিক পলি গত মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) ছুটির পর কারখানা থেকে বের হয়ে যান। পরদিন থেকে তিনি আর কারখানায় না যাওয়ায় সহকর্মীরা তার খোঁজ করতে থাকেন। এমনকি গ্রামের প্রতিবেশী ও কারখানার সুপারভাইজার আল আমিন তার স্ত্রীকে পলির খোঁজে গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতেও পাঠান। সেখানেও পলির খোঁজ মেলেনি। পরে আজ কারখানার শ্রমিকেরা পলির বোন রুনা আক্তারকে ফোন করে জানান নির্জন ওই পরিত্যক্ত কুয়ার মধ্যে একটি লাশ পাওয়া গেছে। লাশটি তার বোনের কি না তা এসে দেখতে বলেন তারা।

খবর পেয়ে রুনা ও তার স্বজনরা পুলিশকে ঘটনাটি জানালে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কুয়া থেকে এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করেন। লাশটি গলে যাওয়ায় ওই নারীকে শনাক্ত করা যায়নি। তবে পরনের কাপড় দেখে স্বজনরা দাবি করেন এটি নিখোঁজ পোশাক শ্রমিক পলির মরদেহ।

নিহত পলির ছোট ভাই আমিনুল বলেন, কারখানার শ্রমিকদের কাছ থেকে জানতে পেরে আমরা পুলিশে খবর দিই। যতটুকু দেখেছি এটা আমার বোনের লাশ। শ্রমিকেরা কীভাবে জানল এখানে লাশ আছে, আমরা তা বলতে পারছি না। 

আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) হাচিব শিকদার বলেন, নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবার দাবি করলেও যেহেতু লাশের মুখমণ্ডল বোঝা যাচ্ছে না তাই তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তদন্ত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া নিহতের পরিবার নিখোঁজের বিষয়ে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগও দায়ের করেননি। 

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পলিকে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশে পরিত্যক্ত ওই কুয়ায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

তবে কারখানার শ্রমিক বা স্বজনরা কীভাবে একটি নির্জন এলাকার কুয়ার মধ্যে মরদেহের খবর পেলেন―এমন প্রশ্নের জবাবে হাচিব শিকদার বলেন, বিষয়টি রহস্যজনক। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে।